সরকার বদলের পর থেকে কক্সবাজারের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী চকরিয়া উপজেলার সুন্দরবনের চিংড়ি ঘের ও মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় অবৈধভাবে দখল, চাঁদা আদায় ও আধিপত্য বিস্তারে মারিয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চকরিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি ঘের ও মৎস্য প্রজেক্ট এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে চকরিয়া থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চিংড়ি ঘের ও মাছের প্রজেক্টকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের আভিযানিক টিম বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে চকরিয়া থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসী, দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে চকরিয়া থানাধীন বিভিন্ন চিংড়ি ঘের ও মাছের প্রজেক্ট এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে গত দুই দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার পাঁচজন হলেন— চকরিয়া উপজেলা ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বালুচর এলাকার মরহুম বাহার উল্লাহার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫), উলুবনিয়া এলাকার মরহুম শফিউল আলমের ছেলে রমজান আলী (৩৫), রিংভং এলাকার মরহুম আশারাগ আলীর ছেলে নাসির উদ্দীন (৬০), লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের পর্বপাড়া এলাকার মকছুদ আহমদের ছেলে ছোটন মাহামুদ (২৮) ও সাহারবিল ইউনিয়নের কোরাল খালী এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে জমিরউদ্দীন বাবুল (৪২)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সঙ্ঘবদ্ধভাবে চিংড়ি ঘের ও মাছের প্রজেক্টকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। পুলিশ উপরোক্ত আসামিদের বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করেছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, চকরিয়া চিংড়ি জোন ও মৎস্য প্রজেক্ট এলাকার জনগণের জানমাল রক্ষাসহ প্রকৃত মৎস্যচাষীদের নিরাপদ মৎস্য চাষে সহযোগিতা ও অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, এ এলাকার চিংড়ি দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রফতানিমুখী সম্পদ। যা হোয়াইট গোল্ড বা সাদা সোনা হিসেবে পরিচিত। এলাকার প্রকৃত বৈধ চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য গত দুই-তিন দিন ধরে চিংড়ি জোন এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দলমত নির্বিশেষে পুলিশী অভিযান অব্যাহত থাকবে।



