একই উপজেলা থেকে এমপি হলেন ৩ জন

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এবং বিজয় উল্লাস করছেন শামা ওবায়েদ। কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুর পর গণমানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিগত ১৭ বছর মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, নগরকান্দা-সালথার জনগণের পাশে থেকে সুখ-দুঃখের ভাগী হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কাজী আফতাব হোসেন, নগরকান্দা (ফরিদপুর)

Location :

Faridpur
(বাঁ দিক থেকে) শামা ওবায়েদ, মো: শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও ববি হাজ্জাজ
(বাঁ দিক থেকে) শামা ওবায়েদ, মো: শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও ববি হাজ্জাজ |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক উপজেলা থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির তিনজন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। অবাক করার কথা মতো হলেও এটাই সত্যি। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তিন কৃতী সন্তান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

তিন এমপি হলেন— শামা ওবায়েদ, মো: শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও ববি হাজ্জাজ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খন্দকার পরিবারে কৃতী সন্তান উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র মেয়ে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মো: শহিদুল ইসলাম খান বাবুল তালমা ইউনিয়নের কোনা গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে।

অন্যজন হলেন উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের বিখ্যাত ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের ছেলে রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজ।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এবং বিজয় উল্লাস করছেন শামা ওবায়েদ। কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুর পর গণমানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিগত ১৭ বছর মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, নগরকান্দা-সালথার জনগণের পাশে থেকে সুখ-দুঃখের ভাগী হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শামা ওবায়েদ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নগরকান্দা-সালথাবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এ অঞ্চলের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলেছেন। তিনি যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহ আকরাম আলীকে (ধলা হুজুর) ৩২ হাজার ২৫৩ ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শামা ওবায়েদ।

এদিকে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম বাবুলও বিভিন্ন সময় নগরকান্দা ও সালথা বিএনপির একটি অংশের নেতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং সুখে-দুঃখে ১৭ বছর তাদের পাশে থেকেছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান এবং স্বল্প সময়ে এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ের মনি কোঠায় জায়গা করে নেন। এই সংসদীয় এলাকার দুইটি ইউনিয়ন কেটে নগরকান্দার ভেতরে দেয়া হলে এই এলাকার মানুষ ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। তাদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ে সফলতা অর্জন করেছেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

তিনি যুবসমাজের আইডল হিসেবে এ অঞ্চলে সমাদৃত এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। এ অঞ্চলের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ফরিদপুর-৪ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই আসনেই জামায়াত জোট মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে ৫১ হাজার ৬৯৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

নগরকান্দার আর একজন কৃতী সন্তান রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে কোনো গণসংযোগ অথবা এলাকার জনসাধারণের পাশে না থাকলেও নগরকান্দায় তার বাবা-দাদার ভিটামাটি। জন্মসূত্রে তিনি এ অঞ্চলেরই সন্তান। এ হিসেবে তাকে নগরকান্দার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তার বাবা মুসা বিন শমসের প্রিন্স মুসা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তার সুযোগ্য ছেলে ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হককে দুই হাজার ৩২৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হন ববি হাজ্জাজ।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা সালথার) আসনের চায়ের দোকান, হাট-বাজার সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই তিন কৃতী সন্তানকে নিয়ে। কে মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন, কোন মন্ত্রণালয়ে পাচ্ছেন এ নিয়েই নগরকান্দা ও সালথায় চলছে সর্বত্রই গুঞ্জন। নগরকান্দা-সালথাবাসীর প্রাণের দাবি, এ তিনজনকেই মন্ত্রী হিসেবে তারা দেখতে চান।