ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছে জামায়াত। শুধুমাত্র যশোর সদর আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারি ফলাফলে তারা নির্বাচিত হন।
বিজয়ীরা হলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতের মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী।
বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। ফলে ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে মাওলানা আজিজুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। দুই উপজেলার ১৭৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩১ ভোট। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ২৩ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
যশোরের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ১৯০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ ভোট।
যশোর-৪ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। নির্বাচনের ফলাফলে অধ্যাপক গোলাম রসুল ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৪ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধ্যাপক গোলাম রসুল ৪৭ হাজার ৯৩৮ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেনকে (কলস প্রতীক) পরাজিত করেন। ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫১৬ ভোট। এছাড়া ১৮ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক মোক্তার আলী মোট ৯১ হাজার ৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৫৯ ভোট। এতে ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী হয়েছেন।



