দ্বিগুণ দামে বস্তা, অর্ধেক দামে আলু : দিশেহারা কৃষক

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতে আলু বিক্রি হয়েছে ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

Location :

Rajshahi
আলু বস্তায় ভরা হচ্ছে
আলু বস্তায় ভরা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আলু উত্তোলন মৌসুমে বস্তার দাম দ্বিগুণ এবং আলুর দাম অর্ধেক বা অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ মেটাতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতে আলু বিক্রি হয়েছে ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে।

উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আলু উত্তোলন। এর সাথে আলু সংরক্ষণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন চাষিরা। তবে এ সময় দেখা দিয়েছে পাটের বস্তার সঙ্কট।

এ সঙ্কটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে মজুদ ব্যবসায়ীরা জমি থেকে সরাসরি আলু কিনছেন না। তারা ফড়িয়া ও দালালের মাধ্যমে কম দামে আলু কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে পানির দামে আলু বিক্রি করছেন।

চাষিরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও জমিতে নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে। কিন্তু বস্তা সঙ্কটের অজুহাতে সরাসরি কেনা বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমানে সেই দাম নেমে এসেছে ১২ থেকে ১৩ টাকায়। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। এর সাথে যোগ হবে হিমাগার ভাড়া, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন খরচ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ডায়মন্ড জাত ৮২০ হেক্টর, কার্ডিনাল ৫৪০ হেক্টর এবং এস্টোরিক্স জাত ১৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এ মৌসুমে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার ২৬০ টন।

আলু চাষিদের অভিযোগ, আলু তোলার মৌসুমে উত্তরাঞ্চলজুড়ে একটি বস্তা সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কম দামে আলু কিনতে কৃত্রিমভাবে বস্তা সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে অর্ডার করলেও ৮ থেকে ১০ দিন পর বস্তা পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, এ অঞ্চলের কয়েকটি জুট মিল আগে সরাসরি চাষিদের কাছে বস্তা সরবরাহ করলেও এবার সরবরাহ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলার চাষিরা, নওগাঁ, বগুড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে গিয়ে বস্তা খুঁজছেন, তবুও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না।

উপজেলার আলু চাষি রশিদ আলী বলেন, ‘এবার দ্বিগুণ দাম দিয়েও বস্তা পাওয়া যাচ্ছে না।’

বখতিয়ারপুর গ্রামের চাষি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বস্তা সঙ্কটের সাথে হিমাগার মালিক, মজুদ ব্যবসায়ী ও জুট মিলগুলোর সিন্ডিকেট একসাথে কাজ করছে। এতে আমাদের লোকসান আরো বাড়ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় দুটি হিমাগার রয়েছে, যেখানে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যায়।

সংশ্লিষ্ট এক হিমাগার মালিক জানান, চাহিদার তুলনায় পাটের বস্তার উৎপাদন কম হওয়ায় এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে জানা গেছে, রাজশাহী ও আশপাশ এলাকায় অন্তত ছয়টি জুট মিল রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনক্ষমতা প্রায় দেড় কোটি বস্তা। এছাড়া কিছু হিমাগার মালিকের নিজস্ব জুট মিলও রয়েছে। তবে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে বাইরের জেলা থেকে বস্তা পরিবহন জটিলতা থাকায় সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আলুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম নেই। সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষকেরা ভালো দাম পেতে পারেন। কোথাও কোথাও বস্তা সঙ্কটের বিষয়টি শোনা যাচ্ছে।’

এদিকে, এক হিমাগার মালিক দাবি করেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণেই বস্তার দাম বেড়েছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে না।

Topics