পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সিলেটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধীরা। ঈদকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী গাড়ি চোর সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বড় বড় শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনকে টার্গেট করে এসব অপরাধীরা।
বিশেষ কায়দায় লক খুলে গাড়ি নিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায় এই চক্র। সম্প্রতি এমনই এক চক্রের সন্ধান পেয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অপরাধ বিভাগ। চুরি হওয়া গাড়িটিও তিন ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়।
এসএমপি পুলিশ বলছে, ঈদকে সামনে রেখে গাড়ি চোর চক্রের টার্গেট বড় বড় শপিংমল। ক্রেতাদের দামি গাড়ি টার্গেট করে আগে থেকে অনুসরণ করে চক্রের সদস্যরা। আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করে চোরেরা লক খুলে গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যায়। স্বল্প সময়ে গাড়ি চুরিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে চোরেরা।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে নগরীর জেল রোডের সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারের পাশে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং শোরুমে প্রাইভেটকারে শপিং করতে আসেন সামিয়া জামান (২৬) নামের এক ক্রেতা। ওইদিন গাড়িটি পার্কিং-এ লক করে আড়ংয়ে শপিং করতে যান ওই নারী। শপিং শেষ করে এসে দেখেন গাড়ি নেই, তখনই আকাশ যেন মাথায় ভেঙে পড়ে।
সাথে সাথে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন সামিয়া জামান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন ঘণ্টার মাথায় রাত ১২টার দিকে নগরীর উপশহর মেইন সড়কের সানিহিল স্কুলের সামনে পার্কিং করা অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে গাড়ি উদ্ধার হলেও অপরাধীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, গাড়ি চুরির বিষয়ে ওইদিন রাত ১০টা ১০ মিনিটে ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখে, রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে অজ্ঞাত পরিচয় চোরেরা কৌশলে তালা খুলে গাড়িটি নিয়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ি চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর শুরু হয় পুলিশের চিরুনী অভিযান। এসএমপির পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকিরের দিকনির্দেশনায় অভিযানে নামে পুলিশ। সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে তিন ঘণ্টার মধ্যে উপশহর ডি-ব্লক সানিহিল স্কুলের সামনে মেইন রোড থেকে চুরি হওয়া গাড়িটি উদ্ধারে সক্ষম হন।



