রংপুরে শীতার্ত মানুষের মাঝে নিজ উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করেছে রংপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
এর আগে নগরীর রেলওয়ে স্টেশনে ভাসমান মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (হেড কোয়ার্টার্স) হাবিবুর রহমান, উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।
গেলো প্রায় ১০ দিন ধরে এই অঞ্চলে চলছে শৈত্য প্রবাহ। হিম ঠান্ডায় দুঃস্থ ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষরা পড়েছেন মহাবিপাকে। কম্বলের জন্য তাদের মাঝে চলছে হাহাকার। এই সময়ে কম্বল পেয়ে খুশি তারা।
মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে পুলিশ কমিশনারের দেয়া কম্বল পেয়ে স্বস্তি এসেছে ষাটোর্ধ আবুল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘কে দিলো কম্বল সেটা জানি না। রোগী নিয়ে এসেছি নীলফামারী থেকে। সাথে যা এনেছিলাম তা দিয়ে রোগীরই শীত নিবারণ হচ্ছে না। এই কম্বলটা পাওয়ায় রাতে অন্তত ঠান্ডা থেকে একটু নিবারণ হবে।’
২ নম্বর ওয়ার্ডে কম্বল পেয়েছেন সাবরিনা আখতার। তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হলো পুলিশ কম্বল দিলো। আমার খুব উপকার হলো। কারণ সাত দিন থেকে রোগী নিয়ে এসেছি ঠাঁকুরগাঁও থেকে। এসেই ঠান্ডায় ভুগতেছি। বেশ উপকার হলো।’
নগরীর রেল স্টেশনে ভাসমান ভিখারী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কাই যে কম্বল গাত দিয়া দিলো। চিনলাম। আল্লাহ তার ভালো করুক।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় সরকারি-বেসরকারি তরফ থেকে যে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
কম্বল বিতরণের মাঝে মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ‘কিছু কম্বল আমরা বিতরণ করছি। আমাদের টার্গেট পঞ্চাশোর্ধ মানুষকে দেয়া। সেটাই করছি। অবস্থা খুবই ভয়াবহ। বিত্তবানদের শীতার্ত দুঃস্থদের পাশে দাড়ানো খুবই জরুরি।’
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রতিটি ডিসির কাছে এরই মধ্যে সাড়ে সাত হাজার করে কম্বল এসেছে। সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। আরো চাদিহা পাঠানো হয়েছে।



