বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে আগ্রহী জাপান : তাকাহাসি নাওকি

‘আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকার শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করবে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান-বিনিময় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
শাবিপ্রবিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ
শাবিপ্রবিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন তাকাহাসি নাওকি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে আগ্রহী জাপান। বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরো জোরদার করতে চাই। আশা করি, বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় হবে।’

তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবি একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এর অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বের ওপর জোর দিতে চাই। সিলেট একটি শান্ত ও মনোরম শহর। এখানে আসতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের সহযোগিতামূলক কাজকে আরো সমৃদ্ধ করে যাব।’

সোমবার (১ মার্চ) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) সম্মেলনকক্ষে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থী সমিতি বাংলাদেশ (জুয়াব) সিলেট অঞ্চলের অ্যালামনাইদের মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় ধারাবাহিক উন্নতির বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত করি, বিশেষ করে আপনাদের দেশেও। তারা উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে দেশের জন্য কাজ করবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী ও পাঠ্যক্রম সময়োপযোগী। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময় করতে পারি। আমরা জাপানের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি। জাপানের মানুষ তাদের সততা, ভদ্রতা ও দায়িত্ববোধের জন্য বিশ্বব্যাপী সম্মানিত।’

প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সাজেদুল করিম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকার শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করবে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান-বিনিময় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।’

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিষয় ও উন্নয়ন সহযোগী বিভাগের অর্থনৈতিক গবেষণা ও পরামর্শদাতা হিসাতোমি কোহেই, জুয়াবের নির্বাহী সদস্য ও শাবিপ্রবির গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো: আশরাফ উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো: মোজাম্মেল হক, রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ড. মো: আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো: মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার বেগম, অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান, অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল গনি, অধ্যাপক ড. মো: আবদুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ড. শামীম আরা বেগম, অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক ড. মো: শাখিনুর ইসলাম মন্ডল ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: আতাউর রহমান প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় অ্যালামনাই সদস্যরা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তারা কোর্স সম্পন্ন করার পর চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্তত দুই বছর চাকরি অনুসন্ধানের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।