ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও একটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এক লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ পেয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট।
তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৪৭টি কেন্দ্র ছিল। তিনটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট।
বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৫০ হাজার ৯৬ ভোট। বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে বিএনপি মনোনীত ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক এক লাখ তিন হাজার ৭১১ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট। মোংলা ও রামপাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আলিম বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোমনাথ দে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।
এই আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার ৭৪১ ভোট। মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার ৫৪৭ কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পর শুরু হয় গণনা।



