ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনে যাত্রীচাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের। বিশেষ করে জামালপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে ভোগান্তি বেড়েছে অনেক।
যাত্রীরা জানান, ভোর থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মজুড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল। ট্রেন ছাড়ার ঘণ্টাখানেক আগেই যাত্রীরা বগিতে উঠে অবস্থান নিচ্ছেন। টিকিটধারীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিনা টিকিটের যাত্রীও ট্রেনে উঠছেন।
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া তিস্তা এক্সপ্রেস ,ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস ও দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে। সকাল ও দুপুরের এসব ট্রেনে বগির ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় অনেক যাত্রী দরজা-জানালায় ঝুলে এবং কেউ কেউ ছাদে চড়ে যাত্রা করছেন।
জামালপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ যাওয়ার পথে প্রতিটি স্টেশনেই নতুন যাত্রী উঠায় ভিড় আরো বাড়ছে। ফলে ট্রেনের ছাদ, বগির সংযোগস্থল এমনকি ইঞ্জিনের আশপাশেও যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে চলাচলকারী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, হাওর এক্সপ্রেস ও মহুয়া কমিউটার ট্রেনেও একই চিত্র। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাগামী যাত্রীদের ভিড়ে এসব ট্রেনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার-পরিজন, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে যাত্রীরা ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যেই বাড়ি ফিরছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন তারা।
এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিট পাই না, আবার দাঁড়ানোর জায়গাও নেই- তবুও বাড়ি তো যেতেই হবে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। তবে যাত্রীচাপের তুলনায় তা অপ্রতুল। ছাদে যাত্রী উঠা ঠেকাতে রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা তৎপর থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতু, বৈদ্যুতিক লাইন বা গাছের ডালের সাথে সংঘর্ষে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রতিবছর ঈদযাত্রায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর সমাধানের অভাবে যাত্রীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে ফেলে বাড়ি ফিরছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে এ ভোগান্তি কমবে না।
ঈদের আনন্দযাত্রা যেন দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়- এটাই এখন যাত্রীদের একমাত্র প্রত্যাশা।



