জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরা তরুণদের উত্থান চায় না। এই লড়াইয়ে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা আজ আমাদের মা-বোনদের হিজাব, বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে শুধু নারীদের নয়, পুরো বাংলাদেশকেই বিবস্ত্র করে ফেলবে।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের ‘ইনসাফের যাত্রা’ শীর্ষক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে ওই জনসভার আয়োজন করা হয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশের নারী সমাজের সম্মান, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে। গত এক মাস ধরে একটি দল প্রকাশ্যেই আমাদের মা-বোনদের হিজাব, বোরখা ও শালীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, দেশ আবারো ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হবে।’
ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘যারা তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবার সেই সুযোগ দেয়া হবে না। যদি কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে আসে, আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাদের প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার এবার নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান চেয়েছিলাম, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু আজও তা হয়নি। যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে আঁতাত করে দেশ লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে এবং নিজেদের পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রেখেছে, তারা আবারো ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্র করছে। এই নির্বাচনেই তাদের ব্যালটের মাধ্যমে জনগণকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ তরুণদের ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, তরুণরা জিতুক চায় না মিডিয়া মাফিয়ারা, চায় না টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজরা।
নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, দিনের ভোট রাতে দেয়া হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেই অনাস্থা দূর করে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন, জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’
গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক আমাদের কাছে এসে তাদের অসহায়ত্বের কথা বলেন। দালালদের মালিকানাধীন মিডিয়া সত্য সংবাদ প্রচার করতে দেয় না। ৫ আগস্টের পর আমরা যখন মন্দির-মসজিদ পাহারা দিয়েছি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, তখন একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। দালালি পরিহার করে জনগণের পক্ষে সত্য সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো: মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দেশ চালাবে, নাকি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশ চালাবে। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত বিএনপির ২০০ জন নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। এই হত্যার নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকই নিরাপদ না তাদের হাতে দেশ, সীমানা ও মা বোনরা কতটুক নিরাপদ হবে?’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ‘টেন্ডারবাজ, বালুখেকো ও দুর্নীতিবাজদের শাহজাদপুরের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রত্যাখ্যান করবে, ইনশাল্লাহ।’
এছাড়াও জনসভায় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
সূত্র : বাসস



