সালাউদ্দিন আহমেদই মূলত এখন প্রধানমন্ত্রী : শিবির সভাপতি

​রাজনৈতিক সংস্কার ও ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি সরকারকে ‘মুনাফিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তাদের নিজেদের সাথে নিজেরা মুনাফিকি করছে, বেঈমানি করছে, দ্বিচারিতা করছে। নিজেদের ৩১ দফার প্রথম দফা রাষ্ট্র সংস্কারকেই তারা এখন অস্বীকার করছে। গণভোটের রায় যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে দিয়েছে, সেই রায়কে তারা গড়িমসি করছে। পৃথিবীর কোথাও গণভোটের রায় অমান্য করার নজির নাই।”

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও

Location :

Thakurgaon
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম |নয়া দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

সালাউদ্দিন আহমেদই এখন ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

সরকারের ওপর এ নেতার বিশেষ প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, “ উনি তো ডি-ফ্যাক্টো (মূলত) প্রধানমন্ত্রী এখন। তিনি তো আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাই, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি বাংলাদেশের সবকিছুই চালাচ্ছেন। সালাউদ্দিনের ওপরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা নেই।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

​রাজনৈতিক সংস্কার ও ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি সরকারকে ‘মুনাফিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তাদের নিজেদের সাথে নিজেরা মুনাফিকি করছে, বেঈমানি করছে, দ্বিচারিতা করছে। নিজেদের ৩১ দফার প্রথম দফা রাষ্ট্র সংস্কারকেই তারা এখন অস্বীকার করছে। গণভোটের রায় যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে দিয়েছে, সেই রায়কে তারা গড়িমসি করছে। পৃথিবীর কোথাও গণভোটের রায় অমান্য করার নজির নাই।”

ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের প্রধান কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী এস আলম গ্রুপকে সরকার আবারো মালিকানায় পুনর্বাসিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের করা জনস্বার্থমূলক অধ্যাদেশগুলো পরিবর্তন করে লুটেরাদের সুবিধা করে দিচ্ছে। ব্যাংকের মালিক ছিল এস আলম। এস আলম এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ইসলামী ব্যাংকসহ আরো চারটা ব্যাংক মিলে টোটাল ৯৫ হাজার কোটি টাকা তারা এই ব্যাংকিং খাত থেকে নিয়ে লোপাট করেছে, বিদেশে পাচার করছে অথবা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।”

​তিনি আরো অভিযোগ করেন , জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো সচল করা হলেও এখন তা পুনরায় এস আলমের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। অন্তবর্তী সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো রান করালো, আবার সেই ব্যাংক যাতে লোপাট করতে পারে তার মালিকানা ফেরত নেয়ার জন্য বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশের ধারা বাতিল করলো। যেখানে ৭ পারসেন্ট মালিকানা থাকলেই আবার তারা পূর্বের মালিক হতে পারবে। তার মানে এস আলমের হাতে পুরো চারটা ব্যাংক তুলে দেয়া।”

​দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তিনি বলেন, জিডিপি গ্রোথ রেট ৩.৬৯ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সঙ্কটে মানুষ নাভিশ্বাস অবস্থায় আছে। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। গ্রামে শিক্ষার্থীরা হেঁটে স্কুলে যায়, সেখানে জ্বালানি সঙ্কটের অজুহাতে ক্লাস অনলাইন করা অযৌক্তিক। এই পলিসি সরকারের ভেবেচিন্তে নেয়া উচিত ছিল।”

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির মনে করে গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারকে আমরা দাবি জানাবো। তবে সরকার যদি নমনীয় না হয় এবং আসলেই ফ্যাসিবাদী রাস্তায় হাঁটে, তাহলে যে পরিণতি ফ্যাসিবাদের হয়েছে, সেই কর্মসূচির দিকেই আমাদের ধারাবাহিকভাবে আবার যেতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শহর সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতারা।