বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা-সাতলা সড়কের পাশের ১২ থেকে ১৫ টি সরকারি গাছ নিলাম ছাড়াই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো: হুমায়ন কবির গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে এম আলী টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সামনে বন বিভাগের ওই শিশু গাছগুলো কেটে সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি এসব গাছ চিহ্নিত করে উন্মুক্ত নিলাম ও উপজেলা রেজুলেশন বইয়ে সভার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করা একটি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম উপেক্ষা করেই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির স্থানীয় ব্যবসায়ী নিমচাদ বড়ালের কাছে ওই গাছগুলো বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘নিমচাদ বড়াল নামের একজন কাঠ ব্যবসায়ী গাছগুলো কেটে রেখেছে।’
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাঠ ব্যবসায়ী নিমচাদ বড়ালের এক ঘনিষ্ঠজন দাবি করেন, কলেজের সামনে শিশু গাছের জন্য বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে যাওয়া গাছ কেটেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘ঝড়ের সময় কিছু গাছ পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওটরা-সাতলার এই সড়কে। সেই সময় গাছ কেটে পরিষ্কার করার পারিশ্রমিক হিসেবে বন কর্মকর্তা তাদের এই গাছগুলো দিয়েছেন।’
কী পরিমাণ গাছ এবং এর মূল্য কত হতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
ব্যবসায়ী নিমচাদ বড়ালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, ৯২ হাজার টাকায় ওই গাছগুলো নিমচাদ বড়াল বন কর্মকর্তার কাছ থেকে কিনেছেন। ওই গাছগুলোর মূল্য কমপক্ষে দুই লাখ টাকা হবে।
এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা মো: হুমায়ন কবির বলেন, ‘নিলাম ও রেজুলেশনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।’
রেজুলেশন দেখার কথা বললে তিনি বলেন, ‘আপনার সাথে কথা বলবো।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই নিলাম ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রি করা যাবে না। উপজেলা রেজুলেশন বইতে গাছ বিক্রির কোনো কথা উল্লেখ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


