সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কা

ছেলের মৃত্যুর ৪৯ ঘণ্টা পর নিখোঁজ পিতার লাশ উদ্ধার

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আজ পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জ লবণের মিলের বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ থেকে তার লাশ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা মিরাজ ফকিরের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। লাশ বর্তমানে মিডফোর্ট হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৪৯ ঘণ্টা পর মিরাজ ফকিরের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় কেরানীগঞ্জ লবণের মিলের বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন বরিশুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আজ পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জ লবণের মিলের বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ থেকে তার লাশ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা মিরাজ ফকিরের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। লাশ বর্তমানে মিডফোর্ট হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় মিরাজ ফকির ছেলে সোহেল ফকির (২২) মারা গেছেন এবং সোহেলের স্ত্রী রুবা ফকির (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নৌ-পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মিরাজ ফকিরের বড় ভাই সিরাজ ফকির বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্তি ৫ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশসুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, এ ঘটনায় নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের বড় ভাই ও নিহত সোহেল ফকিরের চাচা সিরাজ ফকির বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা দুই লঞ্চের স্টাফ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় সদরঘাটে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়। এতে ধাক্কা দেয়া লঞ্চের সামনের অংশের আঘাতে অপেক্ষমাণ লঞ্চে থাকা এক যাত্রী পিষ্ট হন। এদের মধ্যে রুবা ফকির (২০) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান।

পুলিশ জানায়, বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠতে গিয়ে পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যেই তিনি পানিতে পড়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।