আজ শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন। মাঝে মধ্যে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেলেও সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির কারণে ঢাকার বাতাসে বেশ ইতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি; সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবারও ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে রয়েছে।
আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৫৫। বায়ুমান সূচক অনুযায়ী বলা যায়, ‘মাঝারি’ হলেও ঢাকার বাতাস ‘ভালো’ হয়ে ওঠার থেকে খুব বেশ দূরে নেই। কারণ এই সূচক ০ থেকে ৫০ এর মধ্যে হলে তা ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই সপ্তাহে ঢাকার বায়ুদুষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গত শনিবার (২৬ জুলাই) ৬৯ একিউআই স্কোর নিয়ে ‘মাঝারি’ শ্রেণিতেই ছিল ঢাকার বাতাস। পরের দিন তা থেকে কিছুটা উন্নতি হয়, রবিবারের একিউআই স্কোর ছিল ৫৮।
তবে সোমবার বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার বাতাসের মানে বেশ অবনতি হয়। ওইদিন ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৯২। যেখানে এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার তা আবারো কিছুটা উন্নতি হয়ে স্কোর ওঠে ৮৬-তে। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকার ২০তম স্থানে নেমেছিল ঢাকা।
পরদিন বুধবার সকালে আরো কিছুটা উন্নতি হয়, সেদিন ঢাকার একিইআই স্কোর ছিল ৭৭। সেই ধারা গতকালও অব্যাহত ছিল। রাতভর ও সকালের বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসের মানে লক্ষণীয় উন্নতি হয়; একিউআই স্কোর উঠে আসে ৫৮-তে।
আজ আরো উন্নতি হয়েছে। ৫৫ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার ৬৩তম স্থানে নেমে এসেছে ঢাকা। সাধারণত নিচে নামা নেতিবাচক হলেও এই অবনমন স্বস্তির। কারণ দূষণ থেকে যতটাসম্ভব দূরে থাকা যায়, ততই ভালো।
এদিকে আজ বাতাসের শহর খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর উঠে এসেছে তালিকার তৃতীয় স্থানে, যার একিউআই স্কোর ১৫৬। ১৭৫ ও ১৬৪ স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
দূষণের স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
সূত্র : ইউএনবি



