মৌলভীবাজারে কমে গেছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা

জলবায়ু আবহাওয়ার পরিবর্তনে এবার পরিযায়ীদের উপস্থিতি অনেকটা কম। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাখির শুমারি না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা যাবে না।

আব্দুল আজিজ, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে পরিযায়ী পাখি
মৌলভীবাজারে পরিযায়ী পাখি |নয়া দিগন্ত

এবারের শীতে মৌলভীবাজারে কমে গেছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। প্রতিবছর মৌলভীবাজারের হাওর-বাওর ও জলাশয়গুলো পাখির কলকাকলিতে ভরে উঠলেও পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। স্থানীয় পাখি প্রেমীদের মতে, শিকারির ভয় আর খাদ্যের অভাবে এদের উপস্থিতি কমে গিয়ে এমনটা হয়েছে।

শীত আসলেই মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, কাউয়াদিঘিসহ বিভিন্ন ডোবা ও ঝিলে হাজার হাজার পরিযায়ীদের আগমন ঘটে। একটু উষ্ণতার জন্যই তারা ছুটে আসে হিম প্রবাহের প্রচণ্ড শীত প্রধান দেশ থেকে। বিশেষ করে হিমালয়ের পাদদেশের আশপাশ থেকে আসে হাজারো পরিযায়ীরা। জলবায়ু আবহাওয়ার পরিবর্তনে এবার পরিযায়ীদের উপস্থিতি অনেকটা কম। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাখির শুমারি না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা যাবে না। পরিযায়ীরা চলতি মৌসুমে দেরিতে আসা শুরু করেছে।

মৌলভীবাজার জেলার বাইক্কা বিল, হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, রাজনগরের মরা মনুর বাঁক, মাথিউড়া চা বাগানের লেকসহ বিভিন্ন বিল-ঝিলে এসেছে পরিযায়ীরা। পাখি প্রেমীরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার অনেকটা কম এসেছে।

শীত আসলেই মৌলভীবাজারে একটু উষ্ণতার জন্য আসে হাজারো পরিযায়ী পাখি। এদের মধ্যে রয়েছে পিয়ং, গিরি, বেলে, পাতি পান সরালি, ধূসর, লালচে বক, রাজ সরালি, ফুলুরি, লেনজা হাঁস, পলাশি ফিশ ঈগল, ভুবন চিল, নল ফুটকিসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি। তবে মরা মনুর বাঁক, বাইক্কা বিল, মাথিউড়া রাবারড্যাম ঘুরে দেখা গেছে, পরিযায়ীর উপস্থিতি আগের মতো নেই।

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে বেড়াতে আসা নুসরাত পারভিন বলেন, ‘পাখি দেখার জন্য এসে হতাশ হয়েছি। শুনেছিলাম এখানে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ীরা আসে। কিন্তু বাস্তবে নেই।’

রাজনগর উপজেলার মাথিউড়া রাবারড্যামের কর্মচারী সুনিল নাইডু জানান, প্রতি বছর এ ড্যামে প্রচুর পাখি আসে। এবার অল্প পাখি এসেছে।

একই উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের মরা মনুর বাঁকের উজিরপুরের বাসিন্দা সুলতান মিয়া বলেন, ‘খাদ্যের অভাবে পাখি কম এসেছে। যারা আসছে তারা মাঝে মাঝে চলে যায়। দু’দিন পর আবার ফিরে আসে। আগে অনেক বেশি পাখি এখানে আসতো।’

কাউয়াদিঘি হাওর পারের রিপন মিয়া বলেন, ‘শীতের শুরুতেই পাখি আসতে শুরু করেছিল। তখন শিকারিদের তৎপরতায় পাখি দিক পরিবর্তন করেছে। জলবায়ু আবহাওয়ার কারণেও অনেকটা কমেছে।’

মৌলভীবাজার জেলা সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরওয়ার বলেন, ‘পাখি দেরিতে এসেছে। শুমারি ছাড়া সঠিক পরিসংখ্যান বলা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই বলছেন, পরিযায়ীরা কম এসেছে। পাখি শিকারের সন্ধান পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের অভাব থাকতে পারে।’