এ বছর অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল কোয়ালিফাই করতে পারেনি এএফসির আসরে কোয়ালিফাই করতে। তিন দলের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায়। যদিও অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল ও সিনিয়র নারী দল এএফসির আসরের ফাইনাল রাউন্ডে খেলা নিশ্চিত করেছে। সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দল হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলেছে। গ্রুপ সেরা হওয়ার বদলে এখন অবস্থান করছে চার দলের মধ্যে তিন নাম্বারে। এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ পুরুষ দলের সামনে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের ফাইনাল রাউন্ডে উঠার সুযোগ। এই মিশনে মঙ্গলবার চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে রানার্সআপ হওয়া দলে যোগ হয়েছেন নতুন পাঁচজন। পুরনো নাজমুল হুদা ফয়সাল, রিফাত কাজী, মোহাম্মদ মানিক, আলিফ রহমান ইমতিয়াজদের নিয়েই এই দল। কোচ হিসেবে বহাল গোলাম রাব্বানী ছোটন।
আজ চীন যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এবার কোয়ালিফাই করার কথাই জানালেন কোচ ছোটন ও অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সাল। এবারের বাছাই পর্ব থেকে ৮ গ্রুপের ৮ চ্যাম্পিয়ন দল কোয়ালিফাই করবে। বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপ থেকে কোয়ালিফাই করতে টপকাতে হবে চীন, বাহরাইন, ব্রুনাই, পূর্ব তিমুর ও শ্রীলঙ্কার বাধা।
চীনের চংকিং শহরে ২২ নভেম্বর শুরু হবে খেলা। শেষ ৩০ নভেম্বর। আসরে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২২ তারিখে পূর্ব তিমুরের বিপক্ষে। ২৪ তারিখে ব্রুনাই, ২৬ তারিখে শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচ। এই তিন সহজ প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার পর ২৮ ও ৩০ নভেম্বর কঠিন দুই দলের সামনে লাল-সবুজরা। ২৮ তারিখে বাহরাইন এবং ৩০ তারিখে চীনের সাথে ম্যাচ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ফয়সালদের অবশ্যই জিততে হবে এই দুই দলের বিপক্ষে। এই আসরে কোয়ালিফাই করার জন্য যশোরের শামস উল হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমীতে চার মাস ধরে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে ৪০ ফুটবলার ছিলেন অনুশীলনে।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ ছোটন জানান, অবশ্যই আমাদের পক্ষে সম্ভব সব দলকে টপকে কোয়ালিফাই করা। যুক্তি হিসেবে দেখান, বাংলাদেশ দল চীন সফর করে এসেছে। চীনে খেলা টুর্নামেন্ট থেকে এই দলে ডাক পেয়েছেন পাঁচজন। এখন ফুটবলাররা যদি সঠিক পরিকল্পনা মাফিক খেলতে পারে, মাঠে দায়িত্বটা ঠিক মতো পালন করতে সক্ষম হয় তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।’ বতর্মান দল সম্পর্কে কোচ বলেন, এই দলে ফিনিশিংয়ে সমস্যা ছিল। তা নিয়ে কাজ করেছি। সেট পিচ এবং ডিফেন্সে নিয়েও কাজ করেছি। আক্রমনভাগে মোহাম্মদ মানিক, রিফাত কাজীরা আমাদের ভরসা।
অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের বয়স ভিত্তিক দলে খেলছেন ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফয়সাল। এটাই তার অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে শেষ মিশন। এরপর খেলবেন অনূর্ধ্ব-১৯/২০ লেভেলে। তার মতে, আমাদের দলের টিম ওয়ার্কটা চমৎকার। চীন ও বাহরাইনের চেয়ে আমরা শুধু নামেই পিছিয়ে আছি। মাঠের পারফরম্যান্স কিন্তু নয়। তাই আমরা পারফরম্যান্সেই ফোকাস করছি। আমরা আশাবাদী এবার ফাইনাল রাউন্ডের টিকিট পাওয়া নিয়ে।



