খালেদা জিয়াকে মিস করবে ক্রিকেট-ফুটবল

তার বিদায়ে দেশ যেমন হারালো একজন অভিভাবক, তেমনি ক্রিকেটেও দেখা দিয়েছে গভীর শূন্যতা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন রাজনীতির এই মহীয়সী নারী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া |সংগৃহীত

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা বাংলাদেশ। শোকে আচ্ছন্ন সকলেই। শোক ছুঁয়েছে ক্রীড়াঙ্গন।

তার বিদায়ে দেশ যেমন হারালো একজন অভিভাবক, তেমনি ক্রিকেটেও দেখা দিয়েছে গভীর শূন্যতা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন রাজনীতির এই মহীয়সী নারী।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় ক্রীড়া আয়োজন ছিল ১৯৯৩ সালের সাফ গেমস। সেই গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দক্ষিণ এশীয় গেমসের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। পুরো আয়োজনই ছিল অত্যন্ত সফল।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া এই গেমস সফল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেন।

খালেদা জিয়ার দুই সন্তানের কনিষ্ঠ ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। সেই কোকোর হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি শুরু হয়। বলা যেতে পারে পদ্মাপাড়ের ক্রিকেটসংস্কৃতির খোলনলচে বদলে দেন তিনি।

ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্রিকেট প্রশাসনের কাজ শুরু করেন কোকো। এই ক্লাব থেকেই উঠে এসেছেন তামিম ইকবালের মতো বিখ্যাত ক্রিকেটারও।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই বাংলাদেশ বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কোকো। দায়িত্ব নিয়েই বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট শুরু করেন। ওই টুর্নামেন্টের ফসল মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানরা, যাদের হাত ধরে এশিয়ার অন্যতম সেরা ক্রিকেট দল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

এছাড়া দেশের ক্রিকেটে বোলিং মেশিন আনা থেকে শুরু করে অন্যান্য আধুনিক সুযোগসুবিধা ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেন কোকো।

খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ। সফল আয়োজক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় বাংলাদেশ।

এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই রাজধানীর অদূরে ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানচিত্রে জায়গা করে নেয়।

এগুলো ছিল প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার ভূমিকার কথা। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবেও যে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রেখেছেন নিরাপদ। ২০১১ বিশ্বকাপ নির্বিঘ্ন করতে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি, তা ইতিহাসে বিরল।

সেই সময় খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপারসন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি আইসিসির প্রধানকে একটি চিঠি দিয়ে আশ্বস্ত করেন যে, ‘বিশ্বকাপ চলাকালে বিএনপি এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবে না, যাতে বিশ্বকাপের খেলা ভন্ডুল হতে পারে।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাই ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থগিত হয়ে গেছে ক্রিকেট ও ফুটবলে দিনের সব খেলা। গভীর শোক জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের সাবেক এবং বর্তমান খেলোয়াড় ও কর্তাব্যক্তিরা।