বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এমন জয় ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো।
কিন্তু এমন চোখ ধাঁধানো ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল নিয়ে বিতর্কের তৈরি শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কোনো ভাবেই ফাউল হয় না। আবার, অনেকের মতে এটি স্বাভাবিক ঘটনা।
জেনে নেয়া যাক কেন গোলটি বাতিল হলো। এর পেছনে ফিফার নিয়ম কী?
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭তম মিনিটে মিসরের মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত একটি আক্রমণ থেকে বল জালে পাঠায় এবং খেলোয়াড়রা গোল উদযাপনও শুরু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর মূল রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন।
ভিএআরের রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে আক্রমণের সময় মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করেছিলেন। যদিও সেই মুহূর্তে খেলা থামানো হয়নি, পরে গোল হওয়ার পর ভিএআর পুরো আক্রমণটি পরীক্ষা করে। ফাউল নিশ্চিত হওয়ায় রেফারি ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করেন এবং আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন।
ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) প্রণীত ফুটবল আইনের ১২-এর আইন অনুযায়ী, কোনো গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের মধ্যে যদি আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় ফাউল, হাতে বল লাগানো বা অন্য কোনো নিয়মভঙ্গ করে, তাহলে ভিএআর সেই ঘটনা পর্যালোচনা করতে পারে। যদি নিয়মভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে গোলটি বাতিল করা হবে। অর্থাৎ গোলটি যত সুন্দরভাবেই হোক না কেন, নিয়ম ভঙ্গ করে করা আক্রমণ থেকে গোল হলে সেটি বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।
বর্তমান ফুটবলে ভিএআরের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গোল হওয়ার আগে কোনো অফসাইড, ফাউল, হাতে বল লাগা বা অন্য কোনো গুরুতর নিয়মভঙ্গ হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা। প্রয়োজন হলে ভিএআর মূল রেফারিকে ভিডিও দেখার পরামর্শ দেয়। এরপর ভিডিও দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মাঠের রেফারিই।



