৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় ফিফা, রাজি নয় উয়েফা

‘ফিফার ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করলে আয়, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, সদস্য ফেডারেশন, কনফেডারেশন, লিগ, ক্লাব ও সামগ্রিক ফুটবল ব্যবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা নিয়োগ দেয়া হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় ফিফা
৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় ফিফা |সংগৃহীত

৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পর এবার আরো বড় স্বপ্ন দেখছে ফিফা। আগামী আসর থেকেই অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা আনুষ্ঠানিক যাচাই শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং করেছে ফিফা। সেখানে জানানো হয়েছে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করলে আয়, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, সদস্য ফেডারেশন, কনফেডারেশন, লিগ, ক্লাব ও সামগ্রিক ফুটবল ব্যবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা নিয়োগ দেয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এরপর ১৪ আগস্ট চূড়ান্ত সংস্থা নির্বাচন করবে ফিফা এবং ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বিশ্লেষণী প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের আলোচনার পাশাপাশি ফিফার নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগ ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। যদিও ফিফার দাবি, ফুটবল বিক্রি করা হচ্ছে না; বরং পরিকল্পনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু মালিকানা নেবে থ্রাইভ ইটারনাল নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। এর প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।

ফিফা সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনাটি সমর্থন করলে প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পেতে পারে। এর মধ্যে শুরুতেই ২০ মিলিয়ন ডলার দেয়া হবে। তবে উয়েফা এই প্রস্তাবকে ‘চাপ সৃষ্টি করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অনুমোদিত হলে ২০৩০ আসরের বর্তমান স্বাগতিক দেশগুলোর সুবিধা পরিবর্তন আসতে পারে। আয়োজক দেশ স্পেন ও পর্তুগালের মতো দলগুলোকেও তখন বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ আগেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন।