অভিযোগ বিজেপি নেতার

মেসিকে ভারতে এনে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি!

‘স্টেডিয়ামটা হয়তো পাঁচ টাকা, এক টাকা দিয়ে প্রতীকীভাবে বুক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু...’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কলকাতায় মেসিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস
কলকাতায় মেসিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস |সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ভারতে আনার ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য অর্জুন সিং। তার দাবি, মাঠে দর্শকদের পানির বোতল ১৫০-২০০ টাকা করে কিনতে হয়েছিল বলে মনে অসন্তোষ জন্মেছিল। এছাড়া মেসিকে ‘চুরি করাতেও’ আপত্তি ছিল সমর্থকদের। এসবের মাঝে কেন্দ্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার (ইডি) তদন্তের দাবি তুললেন অর্জুন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস তাদের বাংলা ভার্সনে এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়, অর্জুন সিং বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা হয়তো পাঁচ টাকা, এক টাকা দিয়ে প্রতীকীভাবে বুক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি একটা জায়গা রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আপত্তি ছিল, ১০ টাকার পানির বোতল বিক্রি হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়। মেসিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, যাদেরকে দেখা গেছে মাঠে, তাদের দেখতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খাওয়া হয়েছে। তার জন্য দ্রুত ইডি তদন্তের প্রয়োজন। কী চুক্তি হয়েছিল, কী চুক্তি হয়েছিল, কত লাভ-লোকসান হলো, তা বলতে হবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির ট্যুর ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মেসি ২০ মিনিটের মতো মাঠে ছিলেন। সেসময় তাকে ঘিরে ছিলেন প্রায় ৮০ জনের মতো মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও পুলিশের বড় বলয় ছিল সেখানে। এবং এসবের জেরে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে পাননি। সেই সময় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সবাইকে মেসির পাশ থেকে সরে যেতেও বলা হয়। তবে কেউ কথা শোনেনি। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তোলাতে ব্যস্ত ছিলেন। এবং বাকিরাও মেসির পাশেপাশেই ঘুরঘুর করছিলেন।

এতে একটা সময় ধৈর্য হারিয়ে দর্শকরা ‘বু’ করতে শুরু করেন। যে মাঠে বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল না, সেখানেই ২০ টাকার বোতল ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সেই বোতলই উড়ে যায় মাঠে।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেসিকে টানেল দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় মাঠ থেকে। তারপর রেলিংয়ের গেটে তালা ভেঙে জনতা ঢুকে পড়ে মাঠে। গ্যালারি থেকে বাকেট সিট ভেঙে তা মাঠে ফেলা হয়। ছেঁড়া হয় ফ্লেক্স। এমনকি ভিআইপিদের জন্য মাঠের পাশে রাখা চেয়ারে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়। পুলিশের সাথে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় দর্শকদের। পুলিশ লাঠিচার্জ করে দর্শকদের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করে।

এরই মাঝে অনেক দর্শক বারপোস্টের জাল কেটে ‘স্মৃতিচিহ্ন’ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর দেখা যায় কেউ চেয়ার নিয়ে যাচ্ছেন তো কেউ কার্পেট কাঁধে নিয়ে যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় সল্টলেক স্টেডিয়ামের দিকেই যাচ্ছিলেন।

তবে মেসি মাঠ ছাড়ার পর তিনি আর স্টেডিয়ামে যাননি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস