বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয় এখনো মেনে নিতে পারছে না মিসর। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার পর ম্যাচের প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
শুধু রেফারিংয়ের মান নিয়েই নয়, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। বিষয়টি তদন্তের দাবিতে ইতোমধ্যে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দেয়া হয়েছে।
মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার উদ্দেশ্যে পাঠানো অভিযোগপত্রে ম্যাচের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। প্রথমটি দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে।
ওই সময় মোস্তাফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি। মিসরের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দলটির প্রতি অবিচার করা হয়েছে।
আরো বড় অভিযোগ যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটের একটি ঘটনাকে ঘিরে। ইএফএর দাবি, ডি-বক্সের ভেতরে মোহাম্মদ সালাহকে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ ট্যাকল করলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি লেতেক্সিয়ের।
এমনকি ঘটনাটি ভিএআরে পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগও নেয়া হয়নি, যা তাদের মতে আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ পরিচালনার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
ইএফএর যোগাযোগবিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মোরাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের এবং তার পুরো রেফারি প্যানেলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
একইসাথে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো থেকেও এই রেফারি দলকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে মিসর।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এটাই প্রথম নয়। এর আগে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও একাধিক ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিল।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও সাম্প্রতিক সময়ে রেফারিংয়ের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এখন সবার নজর ফিফার দিকে। মিসরের এই গুরুতর অভিযোগের পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়, তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না, কিংবা অভিযোগের কোনো ভিত্তি খুঁজে পায় কি না- সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।



