বিশ্বকাপের উত্তাপ শেষ হলেও বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠার পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের জেরে এবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার- অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
ইংলিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান-এর দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে ইংল্যান্ডে থাকা দুই ফুটবলার নিজেদের বাড়ির নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। নিজেদের পরিবার সম্ভাব্য হামলা, ভাঙচুর কিংবা হয়রানির আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর। ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার হাতে ছবি তোলেন। সেখানে লেখা ছিল—‘The Falkland Islands Are Argentine (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার)’।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু দশকের। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও হয়েছিল। ফলে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এমন রাজনৈতিক বার্তা ব্রিটেনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। বিশেষ করে ইংলিশ ক্লাবে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সেই উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করেছেন ম্যাক অ্যালিস্টার ও মার্তিনেজ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পেছনে লিভারপুল বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোনো ভূমিকা নেই। পুরো সিদ্ধান্তই দুই ফুটবলারের পরিবারের।
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন ব্রিটিশ রাজনীতিক নাইল গার্ডিনার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা এক্সে দেয়া পোস্টে দাবি করেন, ব্যানার প্রদর্শনে জড়িত প্রিমিয়ার লিগে খেলা সব আর্জেন্টাইন ফুটবলারের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা উচিত।
তার ভাষায়, ‘যে খেলোয়াড়রা ব্রিটেনে খেলেন এবং এখান থেকেই ক্যারিয়ার ও আর্থিক নিরাপত্তা পান, তাদের এমন ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক বার্তা দেয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’ পাশাপাশি তিনি এ ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বানও জানান।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।



