ফিলিস্তিনকে ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করল মিসর

মিসর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয় পেয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান এই ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মিসরের কোচ হোসাম হাসান
মিসরের কোচ হোসাম হাসান |সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে তৈরি হলো এক আবেগঘন ইতিহাস। ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছে মিসর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় জয়টি ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান।

মিসরের এই রূপকথার জয়ে আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আনন্দের জোয়ারে ভেসেছে ফিলিস্তিনের আপামর জনসাধারণও; সারারাত মেতেছিল জয়ের উৎসবে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময় শেষেও খেলাটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিট যোগ করেও সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিজয় ছিনিয়ে নেয় মিসর। অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে মিসর তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় নিশ্চিত করে।

১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপেই কেবল নকআউটে খেলেছিল মিসর। যদিও ওই আসরই ছিল সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে। তাদের সে যাত্রা শেষ হয় হাঙ্গেরির কাছে হেরে। তার ৯২ বছর পর চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেই মোহাম্মদ সালাহ’র দল ইতিহাস গড়েছিল। এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোয় উঠল মিসর।

ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল মিসরের। ৫৮ শতাংশ পজেশন রাখা লিভারপুল ও মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহর দল ১৪ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে ছিল। এর আগে ম্যাচের ১৩ মিনিটে মিসর লিড পায় ইমান আশুরের দারুণ এক হেডে দেয়া গোলে। আর ৫৫ মিনিটে মিসরের মোহাম্মদ হানির দেয়া আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে।

অস্ট্রেলিয়া টাইব্রেকারের শুরুটাই করেছে মিস দিয়ে, হ্যারি শুটারের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর তাদের চতুর্থ শট নেয়া লুকাস হেরিংটনও ভুলে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন। বিপরীতে মিসরের পক্ষে শট নেয়া চারজনই (মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহাম্মদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ) জালে জড়িয়েছেন বল। ফলে আর পঞ্চম শট নেয়ার প্রয়োজন হয়নি। জয় নিশ্চিত হয় ৪-২ ব্যবধানে।

সাতবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলেও মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছে মিসর। এ ছাড়া আগের তিন আসরে তারা কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। এই জয়ের ফলে মিসর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কোচ হোসাম হাসান বলেন, আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি তাদের বলতে চাই, এই জয়টি আমি মিসর ও ফিলিস্তিনের সেই দয়ালু ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম নকআউট ম্যাচে জয়ের পর হোসাম হাসান মিসর ও ফিলিস্তিন- উভয় দেশের পতাকা নিয়ে মাঠে নামেন এবং দলের সবাই মিলে মাঠে সিজদা দেন।

মিসরের এই অবিস্মরণীয় জয়ে শামিল হতে দেরি করেননি ফিলিস্তিনের ফুটবলপ্রেমীরাও। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ভেসে যায় ফিলিস্তিনিদের আনন্দ আর শুভকামনার বার্তায়। বিশেষ করে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে সামনে আসা কিছু দৃশ্য ছুঁয়ে গেছে সবার হৃদয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন আর শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুর মাঝেই খেলা দেখতে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। যুদ্ধ আর ধ্বংসের নির্মম বাস্তবতার ভেতরেও তাদের মুখে ছিল চওড়া হাসি। কেউ কেউ উঁচিয়ে ধরেছিলেন মিসরের জাতীয় পতাকা, আবার অনেক শিশুর কচি গালে পরম মায়ায় আঁকা ছিল মিসরের পতাকার রঙ।

সূত্র : আল জাজিরা