শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারাল ইংল্যান্ড। যা ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর মাত্র তৃতীয় হার। এই হারেই শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ মিশন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গোলের পর উল্লাস করছেন খেলোয়াড়রা
গোলের পর উল্লাস করছেন খেলোয়াড়রা |নয়া দিগন্ত

মনে হচ্ছিল হেসেখেলেই শেষ আটে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। শুরুটা হয়েছিল তেমনই, ৩৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় জোড়া গোলে। তবে এরপর চমক দেখায় মেক্সিকো। লড়াই জারি রাখে তারাও। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারাল ইংল্যান্ড। যা ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর মাত্র তৃতীয় হার। এই হারেই শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ মিশন।

আসতেকা স্টেডিয়াম যেন মেক্সিকোর দূর্গ। ঘরের এই মাঠে আগের ৯০ ম্যাচে হার মাত্র ২ বার। পরিসংখ্যান যেমন সঙ্গ দিচ্ছিল, তেমনি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছিল গ্যালারির চেনা ৮৭ হাজার দর্শক।

তাতেই মঞ্চস্থ হলো শিহরণ জাগানিয়া লড়াই। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, পাঁচ গোল, দুই পেনাল্টি, এক লাল কার্ড— ঘটনাবহুল ম্যাচে শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই হলো হাড্ডাহাড্ডি।

সোমবার ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটে মেক্সিকোর দাপট ছিল বেশ। কয়েকটি সুযোগও পায় তারা। তবে এরপর তিন মিনিটের মাঝে দু’টি গোল করে জুড বেলিংহ্যাম এগিয়ে দেন ইংলিশদের।

প্রথম গোলটায় অ্যাসিস্ট করেন বুকায়ো সাকা। তার ক্রস ধরে হেডে বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। আর পরের গোল করেন হ্যারি কেইনের সাথে বল আদান-প্রদান করে। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংলিশরা।

হতভম্ব মেক্সিকো দ্রুতই জেগে উঠে জবাব দেয়। ৪২তম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে আসা বল হুলিয়ান কিনোনেস জালে জড়ান। ২-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে বিরতি থেকে ফিরে বড় ধাক্কা খায় ইংলিশরা। ৫৪তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কুয়ান্সা। তবে তাতে দমে যায়নি থ্রি লায়ন্সরা। উল্টো ৬০ মিনিটে তারা আদায় করে নেয় তৃতীয় গোল।

দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়া গর্ডনকে থামাতে গিয়ে ফেলে দেন গোলকিপার রাহনেল। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। যেখান থেকে আসরে নিজের ষষ্ঠ গোল আদায় করে নিতে সমস্যা হয়নি হ্যারি কেইনের।

তবে ৬ মিনিট পর কেইনের ফাউলেই ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পেনাল্টি দেন। বুদ্ধিদীপ্ত শটে ব্যবধান কমান হিমেনেস। স্কোর হয় ৩-২।

এরপর আর গোল না হলেও গ্যালারির তুমুল হুল্লোড়ের সাথে মাঠেও উত্তেজনা ছড়ায়। হলুদ কার্ড দেখেন ও’রাইলি ও হোর্হে সানচেজ।