লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলে টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতা। সেই ছক থেকে বেরিয়ে বড় জয়ই পেল ঢাকা আবাহনী।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে আকাশী-নীল শিবিরের ৫-০ গোলের জয় ছিল ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুলের বিপক্ষে। এই জয়ের ফলে এক ঝটকায় লিগের পয়েন্ট টেবিলের ৭ নাম্বার থেকে চারে উঠে এসেছে পেশাদার লিগের রেকর্ড ছয়বারের দলটি। কাল অন্য ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে পিডব্লিউডি ও বাংলাদেশ পুলিশ। ৬ খেলায় ৮ পয়েন্ট আবাহনীর। ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ফর্টিস এফসি। রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ১০। তারা আছে তিন নাম্বারে।
এই ইয়ংম্যান্স এবারের লিগে বড় চমক দেখিয়েছিল মোহামেডানকে ২-০ গোলে হারিয়ে। কিন্তু কাল এই দলের খেলা দেখে মনেই হয়নি এরা যে মোহামেডানকে হারানো দল। নড়বড়ে ডিফেন্স লাইন। একটি প্রিমিয়ারে খেলা দলের রক্ষণপ্রাচীর কিভাবে একে একে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৫ গোল খায়। আবাহনী অবশ্য আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারব। গোল মিসই তাদের ৫ গোলের বেশি পেতে দেয়নি। ফলে এবারের লিগে নিজেরা সবচেয়ে গোলের ব্যবধানে জয় পেল মারুফুল হকের দল। আবাহনী এর আগে ফেডারেশন কাপে ব্রাদার্সের কাছে হেরেছিল। আর লিগের আগের ম্যাচে তাদের গোলশূন্য ড্র ছিল ফর্টিসের সাথে।
৩-০ তে প্রথমার্ধ শেষ করা আবাহনীর গোল উৎসবের শুরু ৩২ মিনিটে। সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানির আড়াআড়ি ক্রসে প্লেসিং শটে জালে বল পাঠান গোলমুখে ফাঁকায় থাকা দিয়াবাতে। কিছুই করতে পারেনি ইয়ংম্যান্সের ডিফেন্ডার। ৪ মিনিট পরই ইয়ংমেন্সের সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয় বেন কুয়াত্তারার পেনাল্টি শট বাইরে দিয়ে চলে গেলে। আইভরি কোস্টের এই ফরোয়ার্ডকে বক্সে সুশান্ত ত্রিপুরা ফাউল করলে রেফারী স্পট কিকের নির্দেশ দেন। ৪১ মিনিটে ব্যবধান আবাহনীর দ্বিগুণ করেন দিয়াবাতে। ডান দিকে বাইলাইনের ওপর থেকে মিরাজুল ইসলামের পাস নিয়ে দেখে-শুনে এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মোহামেডান থেকে আসা মালির এই স্ট্রাইকার। তিন মিনিট পর গোলের খাতায় নাম তুলেন মিরাজুল। বাম দিকে আসা ক্রসে তার সাইড ভলিতে যদিও খুব একটা গতি ছিল না, বল ড্রপে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপার সাঞ্জু আহমেদকে পরাস্ত করে তা ঠিকানা খুঁজে পায়। ৭৯ মিনিটে চতুর্থ গোল আবাহনীর। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ভুল পাসে বল পেয়ে এক ছুটে বক্সে ঢুকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন শেখ মোরসালিন। একটু পর আল আমিনের গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় আবাহনীর চলতি লিগে দ্বিতীয় জয়।



