বাবাকে হারানোর শোক এখনো কাটেনি। চোখে-মুখে সেই বিষণ্ণতার ছাপ, হৃদয়ে প্রিয় মানুষকে হারানোর ভার। তবে ফুটবল থেকে দূরে থাকতে পারলেন না মেসি। যে মানুষটি ছিলেন তার সর্বকালের সেরা হয়ে ওঠার প্রেরণা, তাকে ছাড়াই মাঠে ফিরলেন তিনি।
হয়তো মনটা তখনো পড়ে ছিল সুদূর রোজারিওতে, পরিবারের কাছে। তবু পেশাদার জীবনের দায় আর প্রিয় ফুটবলের টান তাকে ফিরিয়ে আনল সবুজ মাঠে। আর মেসি যখন মাঠে পা রাখলেন, গ্যালারি যেন বুঝিয়ে দিল—এই কঠিন সময়ে তিনি একা নন।
বৃহস্পতিবার লিওনের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বেঞ্চে ছিলেন মেসি। বিরতির পর যখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে সাইডলাইনে দাঁড়ালেন, তখন স্টেডিয়ামের আবহটাই বদলে গেল। গ্যালারি থেকে একসাথে ভেসে এলো—‘মেসি… মেসি… মেসি…।’
হাজারো মানুষের সেই ডাক যেন শুধু একজন ফুটবলারকে স্বাগত জানানো ছিল না। ছিল শোকাহত একজন মানুষের প্রতি নীরব ভালোবাসা। তবে এতো ভালোবাসার মাঝেও মুখে হাসি ছিল না মেসির, ছিল না কোনো বাড়তি উদযাপন—ছিল শুধু নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা।
আর সেখানেই ফুটবল হয়ে উঠল একটু অন্যরকম, গম্ভীরমুখো। ম্যাচের পর তো প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেয়ালটাও ভেঙে গেল। শেষ বাঁশি বাজতেই প্রতিপক্ষ দলের লিওনের জোহান রোমানিয়া এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন। দিয়েছেন নীরব সান্ত্বনা।
মাঠেও অবশ্য নিজের ছন্দ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করেছেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৪৯ বার বল স্পর্শ করেন, নেন পাঁচটি শট—তিনটি ছিল লক্ষ্যে। গোল না পেলেও তার উপস্থিতিই যেন ম্যাচের আবহ বদলে দিয়েছিল।
একটি কর্নার থেকে তো সরাসরি গোলও হয়ে যেতে পারত। বল গোলমুখে ঢুকে যাচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে লিওনের গোলরক্ষক মুষ্টি দিয়ে তা সরিয়ে দেন। তাতে এগিয়ে থেকেও ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায়। শেষ হয় লিগস কাপ মিশনও।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্টারের গোলে লিড নিয়েছিল মায়ামি। বিরতির পর নেমে ৫ মিনিটের মাথায় ড্যানিয়েল আরসিলার গোলে লেওন সমতায় ফেরে। ৫৪ মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইট মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন।
এর ৭ মিনিট পর লিড ভেঙে দেন হুয়ান পাবলো ডোমিঙ্গেজ। স্কোর তখন ২-২। কিন্তু ৮৩ মিনিটে মায়ামি গোলরক্ষক অস্কার গার্সিয়াকে পরাস্ত করে লেওনের জয়সূচক গোলটি করেন আরসিলা। যা ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল।
গত দুই আসরে লিগস কাপের ফাইনালে খেলা মায়ামি এবার টুর্নামেন্ট থেকে বেশ আগেভাগেই বিদায় নিল। বিপরীতে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর লিগা এমএক্সের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে লেওন।
মেসি এদিন গোল করতে পারেননি। দলও জিততে পারেনি। কিন্তু শোকের ভেতর থেকে মাঠে ফিরে এসেছেন—ভক্তরা এতেই খুশি।
এদিকে শেষ বাঁশি বাজার পর মেসি আর কাউকে খুঁজলেন না। নীরবে চলে গেলেন টানেলের দিকে।
পথে অবশ্য লিওনের কয়েকজন খেলোয়াড় তাকে সান্ত্বনা দেন। তবে মেসির মন হয়তো পড়েছিল বাবার দিকেই।


