১৬ বছরের খরা কাটানোর মিশনে স্পেন, চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত অস্ট্রিয়া

কাগজে-কলমে স্পেন এগিয়ে থাকলেও লা ফুরিয়া রোজার সামনে রয়েছে ১৬ বছরের নকআউট-খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি স্পেন ও অস্ট্রিয়া
নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি স্পেন ও অস্ট্রিয়া |নয়া দিগন্ত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১টায় ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গড়াবে নকআউট এই লড়াই।

কাগজে-কলমে স্পেন এগিয়ে থাকলেও লা ফুরিয়া রোজার সামনে রয়েছে ১৬ বছরের নকআউট-খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে একটি নকআউট ম্যাচও জিততে পারেনি স্পেন।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০ ও ইউরো ২০১২—টানা তিনটি বড় শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল স্পেনের সোনালি প্রজন্ম। কিন্তু সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপে আর ধরে রাখতে পারেনি তারা।

২০১৪ সালে শিরোপাধারী হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় স্পেন। এরপর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ও ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

এবারো বিশ্বকাপে শুরুটাও প্রত্যাশামতো হয়নি। কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। তবে পরের দুই ম্যাচে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয়।

স্পেনের বড় ভরসার জায়গা তাদের রক্ষণ।

চলতি আসরে এখন পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কোনো প্রতিপক্ষ। দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও ছন্দে থাকা আক্রমণভাগের ওপর ভর করে এবার তাদের লক্ষ্য অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা।

এদিকে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন এখন টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত। আজ হার এড়াতে পারলে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে গড়া নিজেদের টানা ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

যদিও তা হতে দিতে চাইবে না অস্ট্রিয়া

নকআউটে ওঠার পথে তাদের গল্পটাও কম নাটকীয় নয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে তারা।

ম্যাচের ৯৬ মিনিটে সাশা কালাইজডজিচের হেড থেকেই আসে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা সেই গুরুত্বপূর্ণ গোল। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে মধ্য ইউরোপের দেশটি। যা দেশটির বড় অর্জন।

দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ১৬ বার মুখোমুখি হয়ে ৯টিতে জয় পেয়েছে স্পেন, অস্ট্রিয়ার জয় চারটি। বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল অস্ট্রিয়া। তবে সবশেষ দেখায়, ২০০৯ সালের প্রীতি ম্যাচে, ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল স্পেন। এবারো নিশ্চয়ই তেমন কিছুই চাইবে।

যদিও নকআউট বাস্তবতায় আগের ইতিহাস খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। অতীত সাফল্য, পরিসংখ্যান বা ভবিষ্যদ্বাণী; ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের সামনে এসে অর্থহীন হয়ে যায়।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজও তাই সতর্ক। তার ভাষায়, ‘এখন যেকোনো দলই যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। আমরা সেটা জানি এবং সেই প্রস্তুতিই নিয়েছি।’

স্পেন শিবিরে বড় ভরসার নাম লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে গ্রুপ পর্বে তাকে সতর্কতার সাথে খেলানো হলেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই একাদশে দেখা যেতে পারে এই তরুণ উইঙ্গারকে।

তবে চোটের কারণে নিকো উইলিয়ামসকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।