১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্যারাগুয়ে। ফরাসি আক্রমণ বারবার আটকে যাচ্ছিল হোসে লুইস চিলাভার্টের দেয়ালে। ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে।
শেষ পর্যন্ত ১১৪ মিনিটে লরাঁ ব্লাঁর ‘গোল্ডেন গোল’ শুধু প্যারাগুয়েকেই বিদায় করেনি, খুলে দিয়েছিল ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বজয়ের পথও। সেই ম্যাচের ২৮ বছর পর আজ ফের একই মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ারে শেষ ষোলোর ম্যাচে লড়াই করবে তারা।
১৯৯৮ রাউন্ড অব সিক্সটিনের সেই জয়ের রাতে ফরাসিদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দিদিয়ের দেশম। আজ ২৮ বছর পর একই মঞ্চ, একই প্রতিপক্ষ। শুধু বদলেছে দেশমের স্থান। তিনি এখন ডাগ আউটের দায়িত্বে।
কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে ঢের এগিয়ে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে উঠেছে ভয়ের কারণ।
ফ্রান্স চলতি বিশ্বকাপে আক্রমণের ঝড় তুলেছে। গ্রুপ পর্বে সেনেগালকে ৩-১, ইরাককে ৩-০, নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর শেষ বত্রিশে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। চার ম্যাচে করেছে ১৩ গোল, হজম মাত্র ২টি।
কিলিয়ান এমবাপ্পে একাই করেছেন ছয় গোল। ওসমান দেম্বেলেরও আছে ৪ গোল। মাইকেল অলিস, ব্র্যাডলি বারকোলাও পেয়েছেন জালের দেখা। প্যারাগুয়ে কোচের চোখে এ যেন সাক্ষাৎ বজ্রঝড়।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে গুস্তাভো আলফারো বলেন, ‘আমি গ্রামের ছেলে। বজ্রবৃষ্টি হলে আমাদের লুকানোর কোনো জায়গা ছিল না। ফ্রান্সও ঠিক তেমন। তাদের আক্রমণ যখন আসবে, তখনই আপনি বুঝতে পারবেন এর ভয়াবহতা।’
ফ্রান্সকে শুধু ম্যাচের নয়, পুরো বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা দল মনে করছেন আলফারো। তার চোখে শিরোপার চার প্রধান দাবিদার আর্জেন্টিনা, স্পেন, ব্রাজিল ও ফ্রান্স। তবে তাদের মাঝেও ফ্রান্সকে এক নম্বরে রেখেছেন তিনি।
তবু আশা ছাড়ছেন না প্যারাগুয়ে কোচ। বরং জার্মানির বিপক্ষে পাওয়া জয়কে তিনি দেখছেন নতুন আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে। সেই আত্মবিশ্বাসে ভর করে আরেকটি অঘটনের অপেক্ষায় তিনি ও তার দল।
তিনি বলেন, হয়তো আমাদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু ফুটবলে আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। জার্মানিকে হারানোর পর সেই আত্মবিশ্বাস আমরা পেয়েছি। আমরা এখানে ঘুরতে আসিনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি।
বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের সেরা সাফল্য ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। এবার ফ্রান্সকে হারাতে পারলে ১৬ বছর পর আবারো শেষ আটে জায়গা করে নেবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই। ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে এখন পর্যন্ত ৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে এগিয়ে ফ্রান্স। লে ব্লুরা জিতেছে ৩টি ম্যাচ, প্যারাগুয়ের জয় ১টি, আর ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
গোলের হিসাবেও এগিয়ে ফরাসিরা—১০টি গোল করেছে তারা, বিপরীতে প্যারাগুয়ের গোল ৪টি। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৭ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। রেনেসে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই চমকের মঞ্চ। এখানে যেমন জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস, তেমনি ভেঙে যায় পরিসংখ্যানের দেয়াল। তেমন কিছুর লক্ষ্যেই আজ ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে প্যারাগুয়ে।
এই কাজটা রাউন্ড অব ৩২-এ অবশ্য খুব ভালোভাবেই করে এসেছে প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে সেই চমকের জন্ম দিয়েছে তারা। তবে ফ্রান্সকে চোখ রাঙানো কি সহজ হবে?



