বিশ্বকাপে বাজিমাত, ১০ গুণ বেড়েছে ভোজিনহার বাজারমূল্য

‘বিশ্বকাপ শুরুর আগে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৫৮ হাজার ডলারের কাছাকাছি। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর সেই মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ডলারে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভোজিনহা (বাঁয়ে) ও লিওনেল মেসি
ভোজিনহা (বাঁয়ে) ও লিওনেল মেসি |সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এক লাফে প্রায় ১০ গুণ বেড়ে গেছে তার ট্রান্সফার মার্কেট মূল্য।

ট্রান্সফার মার্কেটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৫৮ হাজার ডলারের কাছাকাছি। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর সেই মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ডলারে।

৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের। মাত্র ছয় লাখ জনসংখ্যার দেশটি পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক হয়ে ওঠে। আর সেই রূপকথার যাত্রার অন্যতম নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেক হয় কেপ ভার্দের। শক্তিশালী স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। তার অনবদ্য গোলকিপিংয়ে গোলশূন্য ড্র করে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার দলটি।

সেই ম্যাচের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ভোজিনহা। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ৯৫ লাখ, যা অনেক প্রতিষ্ঠিত তারকা ফুটবলারের চেয়েও বেশি।

গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে এত ছোট জনসংখ্যার কোনো দেশ নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি।

শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দুর্দান্ত লড়াই করে তারা। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও লড়াকু পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়ায় কেপ ভার্দে।

চার ম্যাচে মোট ১৮টি সেভ করেন ভোজিনহা। এর মাঝে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি এবং স্পেনের বিপক্ষে সাতটি সেভ ছিল সবচেয়ে আলোচিত। এই অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও জায়গা করে নেন তিনি।

গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী স্পেনের উনাই সিমন এবং আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেসের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে এই অর্জন করেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

তবে জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া হলেও এখনো নতুন কোনো ক্লাবের সাথে চুক্তি হয়নি ভোজিনহার। বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের পথে তার ৪০ বছরের বয়সই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের আগে তিনি খেলতেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব গ্রুপো দেসপোর্তিভো দে শাভেসে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের এই রূপকথার পারফরম্যান্স তাকে নতুন কোনো বড় ঠিকানা এনে দিতে পারে কি না।