মাঠে জয় এলো না। যোগ করা সময়ে পাওয়া জয়সূচক গোলটিও ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হলো। নকআউট পর্বে সরাসরি ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ মনেই ড্রেসিংরুম ছেড়েছে ইরান।
তবে মাঠের বাইরে আবারো প্রশংসা কুড়িয়েছে তাদের সৃজনশীলতা। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি চিঠি রেখে গেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর যেমনটি করেছিল, এবারো মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ও ফুটবলে ‘ফেয়ার প্লে’র গুরুত্ব তুলে ধরে আবেগঘন একটি বার্তা রেখে যায় তারা।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান দলের যাতায়াত ও লজিস্টিকস নিয়ে ফিফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনার মধ্যেই চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘জয়ের চেয়ে সম্মানই বড়।’
চিঠিতে ইরান লিখেছে, ‘আমরা ইরান থেকে এসেছি। হাজার বছরের ইতিহাসে আমাদের দেশ সবসময় জয়ের চেয়ে সম্মানকে বেশি মূল্য দিয়েছে। আমাদের কাছে ফুটবল শুধু ফলাফলের লড়াই নয়, এটি চরিত্রেরও পরীক্ষা।’
অনেকভাবে হয়তো পয়েন্ট অর্জন করা যায়, কিন্তু সম্মান অর্জন করা যায় না। একটি দল পরের পর্বে উঠতে পারে, কিন্তু ন্যায় ও সম্মানের মাধ্যমেই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।
ফেয়ার প্লে শুধু ফুটবলের নিয়মের একটি লাইন নয়, এটি এই খেলার আত্মা। সিয়াটল, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আর ধন্যবাদ সেই সব ইরানিদের, যারা হৃদয়, কণ্ঠ আর সর্বস্ব দিয়ে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইরান—সবসময় মাথা উঁচু করে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয় থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে ছিল ইরান। যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ে, বাতিল হয়ে যায় গোলটি।
সেই গোল বৈধ হলে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত হতো তাদের। কিন্তু ১-১ ড্রয়ে শেষ হওয়া ম্যাচের পর টানা তিন ড্রয়ে পাওয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ইরানকে।
বর্তমানে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় তিন পয়েন্ট ও শূন্য গোল ব্যবধান নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে তারা। বিশ্বকাপে আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল জায়গা পাবে শেষ ৩২-এ।
তাই শনিবার গ্রুপ ‘জে’, ‘কে’ ও ‘এল’-এর শেষ ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে ইরানের ভাগ্য।
ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে ইরান ফুটবল দলের চিঠিগুলো যেন একটু ব্যতিক্রম। এখানে মিশে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য, লড়াই আর ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্প। আছে কৃতজ্ঞতাবোধও।
সব মিলিয়ে যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে, যে ভাষায় আর অনুভূতি নিয়ে চিঠি লিখছে ইরান দল— তা বেশ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে ফুটবল দুনিয়ায়।



