এই মুহূর্তে ব্রাজিল ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। তবে তিন বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড এখনো পুরোপুরি ফিট নন। তাই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথ দুই ম্যাচে খেলেননি তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন ৭৬ মিনিটে। আক্রমণভাগের আরেক বড় তারকা রাফিনহাও পড়েছেন ইনজুরিতে।
বহু বছর ধরে কোনো ট্রফি জিততে না পারা ব্রাজিল দলটির সাম্প্রতিক সময়ও ভালো যাচ্ছিল না। বিশ্বকাপের আগেই ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা ফ্রান্স, অর্জেন্টিনা ছাড়াও জাপান, তিউনিসিয়া, ইকুয়েডর, বলিভিয়ার মতোও দলের বিপক্ষে জিততে পারেনি।
আর এবারের বিশ্বকাপ তো শুরু করেছিল মরক্কোর সাথে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে। দলের এই দুঃসময়ে কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। সেই দায়িত্বটাই নিজ কাঁধে তুলে নিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। টানা তিন ম্যাচেই গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফুটবলার। মোট চার গোল দিয়ে দলকে যেমন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করে নক আউটে নিয়ে গেছেন, তেমনি ভিনিসিয়াস এখন আছেন গোল্ডেন বুটের দৌড়েও। তিনি করেছেন ৪ গোল। অন্যদিকে ৪টি করে গোল এমবাপ্পে এবং হলান্ডের। ৫ গোল দিয়ে সবার ওপরে লিওনেল মেসি।
নিউইর্য়ক নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খায় ব্র্রাজিল। তাদের ১-১ গোলে ড্র করতে বাধ্য করে মরক্কো। সেই ম্যাচে ইসমাইল সাইবারির গোলে মরক্কো লিড নেয়ার পর হারের শংকা তৈরি হয় ল্যাতিন আমেরিকার দেশটির। ওই অবস্থা থেকে নিজেই দলকে উদ্ধারের দায়িত্ব নেন ভিনিসিয়স। পিছিয়ে পড়ার অল্প কিছুক্ষণ পরে ব্রাজিলকে খেলায় ফেরান তিনি। তার সেই গোলই মরক্কোর বিপক্ষে ১ পয়েন্ট এনে দেয়।
পরের ম্যাচে দুর্বল হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ তে জয়ের একটি গোল করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারাকা। আর গত পরশু জোড়া গোল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ফলে ব্রাজিল যেমন বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটিশদের হারালো তেমনি টুর্নামেন্টে ৪ গোল দিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়াস।
একজন তারকা ফুটবলারের কাছে ফুটবলপ্রেমীরা এমনটাই চায়। যাতে দরকারের সময় নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন ও গোল করে বা করিয়ে দলকে জেতাবেন। সেই কাজই করে চলেছেন এই লেফট উইংগার।
ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন ভিনিসিয়াস। কাতার বিশ্বকাপে তার অভিষেক। সেই বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। এ ছাড়া অপর স্ট্রাইকার রিচালিসনকে দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২৪২ ম্যাচে ৭৭ গোল করা ভিনিসিয়াস জাতীয় দলে ৫২ ম্যাচে জার্সি গায়ে করেছেন ১৩ গোল।
ভিনিসিয়ারে সাথে এবারের বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে দলের জন্য বিশাল ভূমিকা রাখছেন ম্যাথিউস কুনহা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার দারুণ সময় পার করছেন ফুটবলের সর্ববৃহৎ এই আসরে। জাতীয় দলের হয়ে কুনহার আগের ২৩ ম্যাচে ছিল মাত্র ১ গোল। সেখানে বিশ্বকাপের তিন খেলায় তার করা গোলসংখ্যা ৩। হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল দেন তিনি। এরপর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১ গোল।



