পিকফোর্ডের বিশ্বাস

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলবে ইংল্যান্ড

ফুটবলে আমরা যথেষ্ট সম্মান অর্জন করেছি। কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাক বা বিপক্ষে যাক, আমরা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার খেলায় মনোযোগ দেই। মাঠের খেলাই আমাদের হয়ে কথা বলে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা এভাবেই খেলেছি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড
ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড |ইন্টারনেট

ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বিশ্বাস করেন, বুধবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে তার দল মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারবে।

এই দুই দলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্ব ফুটবলের সবসময়ই কঠিন এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়, যা মাঠের ভেতর ও বাইরের নানা ঘটনার কারণে আরো তীব্র হয়েছে।

পিকফোর্ড বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে ইংল্যান্ড বড় ধরনের কোনো উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই এড়াতে পেরেছে এবং তারা চাপ সামলাতে সক্ষম।

সোমবার কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের অনুশীলন শিবিরে তিনি বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আপনারা দেখেছেন, আমরা ট্যাকল জেতার জন্য কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু আমরা কোনো ঝামেলা বা হাতাহাতিতে জড়াইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফুটবলে আমরা যথেষ্ট সম্মান অর্জন করেছি। কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাক বা বিপক্ষে যাক, আমরা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার খেলায় মনোযোগ দেই। মাঠের খেলাই আমাদের হয়ে কথা বলে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা এভাবেই খেলেছি। জ্যারেল কুয়ানসাহর মেক্সিকো ম্যাচে লাল কার্ড ছাড়া আমাদের আর কোনো খেলোয়াড় নিষিদ্ধ হয়নি, দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও কেউ দেখেনি।’

আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। তবে এভারটনের গোলরক্ষক পিকফোর্ড ইংল্যান্ডের তারকাদের প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘মেসিকে নিয়েই সবাই কথা বলবে, কারণ তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা। কিন্তু আমাদের দলে যে সামর্থ্য ও প্রতিভা রয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করা যায় না। আক্রমণভাগ, রক্ষণভাগ, দলীয় ঐক্য- সবই আমাদের আছে। বুধবার সেই সামর্থ্যই মাঠে দেখাতে হবে।’

দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই ছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পায়। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা দু’টি গোল করেছিলেন, যার একটি ছিল কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, আর অন্যটি ছিল একক নৈপুণ্যে করা দুর্দান্ত গোল। এ গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে পিকফোর্ডের কাছে অতীতের সেই ইতিহাসের বিশেষ গুরুত্ব নেই। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপার আরো কাছে পৌঁছাতে চায় ইংল্যান্ড।

তিনি বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই, ফাইনালে ওঠার লড়াাই। এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। ৯০ মিনিট, প্রয়োজনে ১২০ মিনিট, এরপর পেনাল্টি। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এটি আমাদের বনাম তাদের লড়াই, আর শেষ পর্যন্ত কে জিতবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেই চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’