বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো। প্রথমার্ধে কানাডার প্রবল চাপ সামলেও বিরতির পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-০ গোলের জয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য ছিল এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার। শুরু থেকেই উচ্চগতির প্রেসিংয়ে মরক্কোর রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। ষষ্ঠ মিনিটে জনাথন ডেভিডের শট এবং ১২তম মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির জোরালো প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
২২তম মিনিটে চোটে পড়ে ধাক্কা খায় মরক্কো। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইসমাইল সাইবারির পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে মরক্কো। ৩০তম মিনিটে রাহিমির শট থেকে আসে তাদের প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা, যদিও সহজেই বল ধরে ফেলেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো।
প্রথমার্ধের শেষদিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আচরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়ার সংঘর্ষের পর উভয়েই হলুদ কার্ড দেখেন। পরে জনাথন ডেভিড, আজেদ্দিন উনাহি ও বিলাল এল খান্নুসও সতর্কবার্তা পান। যোগ করা সময়েও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০তম মিনিটে অনুশীলনে সাজানো এক ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায় মরক্কো। আচরাফ হাকিমির ছোট পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে নিচু শটে জালে বল পাঠান আজেদ্দিন উনাহি। কানাডার রক্ষণ ভেদ করে যাওয়া সেই শটে গোলরক্ষক ক্রেপোর কিছুই করার ছিল না।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় কানাডা। তবে বুনুর দৃঢ় গোলকিপিং এবং মরক্কোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। উল্টো পাল্টা আক্রমণে আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি।
৮২তম মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
শেষদিকে মরক্কোর আক্রমণের ধার আরো বাড়ে। ৮৭তম মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলেও যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আর ভুল করেননি তিনি। মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে দিয়াজের বাড়ানো পাস ধরে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে কানাডার চাপ সামলেও দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন, নিখুঁত পাল্টা আক্রমণ এবং দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে অনবদ্য ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হন আজেদ্দিন উনাহি, আর বদলি হিসেবে নেমে গোল করে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুফিয়ান রাহিমি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল মরক্কো। এখন শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে পরবর্তী নকআউট ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে।



