নিজেদের বিশ্বকাপে দাপট দেখাচ্ছে স্বাগতিক ৩ দেশ

এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্টিফেন ইউস্তাকিওর শেষ মুহূর্তের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম নকআউট জয়ও তুলে নেয় তারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কানাডা ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রও টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরের মাঠের সুবিধা এবারের আয়োজক তিনটি স্বাগতিক দেশই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।

তিন দেশ ও ১৭টি শহরজুড়ে বিস্তৃত এই বিশ্বকাপে অনেক দলই মানিয়ে নিতে হিমশিম খেলেও তিন স্বাগতিক কিভাবে সফল হয়েছে, তা তুলে ধরেছে এএফপি স্পোর্টস।

মেক্সিকো
স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, সবখানেই উন্মাতাল সমর্থকদের অনুপ্রেরণায় ভর করে মেক্সিকো ইতোমধ্যেই ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে তারা নকআউট পর্বে জয়ের দীর্ঘ খরা কাটিয়েছে।

এল ত্রি এখন আত্মবিশ্বাসী রোববার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিতে পারবে।

হাভিয়ের আগিরের দল তুলনামূলক সহজ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে অনায়াসে পরের পর্বে ওঠে। তবে গ্রুপপর্বে জার্মানিকে হারানো এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় হওয়া ইকুয়েডরকে প্রথমার্ধেই বিধ্বস্ত করে মেক্সিকো ইংল্যান্ডের জন্যও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস চার ম্যাচে তিন গোল করে মেক্সিকোর নতুন তারকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেস টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে আবেগে কেঁদে ফেলেন।

তৃতীয় দফায় দলের দায়িত্বে থাকা আগিরে এবার সেই সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছেন, যা তিনি ২০০২ ও ২০১০ সালে করতে পারেননি। তার লক্ষ্য মেক্সিকোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেয়া, যা ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে নিজেদের মাটিতে খেলা বিশ্বকাপে তাদের সেরা অর্জনের সমান হবে।

ইকুয়েডরকে হারানোর পর মেক্সিকো সিটির রাস্তায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ উদযাপনে নেমেছিল বলে জানা গেছে। আগিরে বলেন, ‘আমি বলতে পারি, এই দলটি যা অর্জন করছে, তা পুরোপুরি প্রাপ্য। সমর্থকদের সাথে এই অসাধারণ বন্ধন এবং নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক শক্তি দিচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র
নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস তৈরি করতে না পারার যে শঙ্কা ছিল, তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে মরিসিও পোচেত্তিনোর দল। এমন এক দেশে, যেখানে ফুটবলকে এখনো জনপ্রিয়তার জন্য অন্য খেলাগুলোর সাথে লড়াই করতে হয়, সেখানে তারা নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক উপভোগ করেছে। সব নেটওয়ার্ক মিলিয়ে গড়ে ৩ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ ম্যাচটি দেখেছেন।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে পোচেত্তিনোকে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন কোচে পরিণত করা উচ্চগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল তিনি সফলভাবেই জাতীয় দলেও প্রয়োগ করেছেন।

প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় প্যারাগুয়েকে, যারা পরে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ওঠে।

টুর্নামেন্টে তিন গোল করা অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগান বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখলেও ১০ জনের দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনায়াসেই ম্যাচটি শেষ করে।

নিষিদ্ধ বালোগানকে ছাড়াই শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। পোচেত্তিনোর দল বিশ্বাস করছে, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে এই প্রতিপক্ষকে তারা ভয় পাচ্ছে না। ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে ওঠাই এখন তাদের লক্ষ্য।

কানাডা
বিশ্বকাপে কানাডার সাফল্যের সীমাবদ্ধতা ভেঙে যায় যখন তারা প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠে। শুধু তাই নয়, কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সাথে এই কীর্তি গড়ে।

গ্রুপ ‘বি’-তে সুইজারল্যান্ডের পর দ্বিতীয় হওয়ায় টুর্নামেন্টের বাকি অংশ খেলতে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়েছে।

এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্টিফেন ইউস্তাকিওর শেষ মুহূর্তের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম নকআউট জয়ও তুলে নেয় তারা।

তবে শনিবার হিউস্টনে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট এবং অন্যতম ফেবারিট মরক্কো।

কানাডার কোচ, স্পষ্টভাষী মার্কিন নাগরিক জেসি মার্শ এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্যই নিজের খেলোয়াড়দের ‘কানাডার নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ‘হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার অনেক কিছু আছে’। ম্যাচটি তাদের সামনে এমন এক সুযোগ এনে দিয়েছে যেখানে তারা আরো বড় ইতিহাস গড়তে পারে।