লড়াই করেও হেরে মাঠ ছাড়ল বাঘিনীরা

পুরো ম্যাচে অবশ্য প্রত্যাশিতভাবে দাপট ছিল চীনেরই, ৫৯.৭ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। আর বাংলাদেশ বল দখলে রাখে ৪০.৪ শতাংশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

দ্বিতীয়ার্ধে চীনকে আর উড়তে দিলো না বাংলাদেশ। বেঁধে রাখল পুরোটা সময় জুড়ে। প্রথমার্ধেরও প্রথম ৪৪ মিনিট নিজেদের দৃঢ় করে রেখেছিল টাইগ্রেসরা। তবে সর্বনাশ যা হওয়ার তা এর মাঝেই হয়ে গেছে। এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলো না বাংলাদেশ। লড়াই করেও চীনের কাছে টাইগ্রেসরা হেরে গেছে ২-০ গোলে।

১৯৮০ সালে সর্বশেষ এশিয়ান কাপে খেলে বাংলাদেশ। তবে নারী এশিয়ান কাপে আজই প্রথম মাঠে নামে টাইগ্রেসরা। সব মিলিয়ে ৪৬ বছর পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় দেখা গেল বাংলাদেশকে।

যদিও প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছ পিটার বাটলারের দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ৯ শিরোপা জেতা চীনের মুখোমুখি হয়।

অবশ্য ৪৪ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারে বাংলাদেশ। দূরপাল্লার শটে গোল করলেন চীনের মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং।

বক্সের বাইরে থেকে বাতাসে ভাসানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। পরের গোল আসে ৭ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই।

৪৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৩ মিনিটের মাঝে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় চীন।

অবশ্য এর আগ পর্যন্ত অনেকটা লড়াই করছিল বাংলাদেশ। আক্রমণের শুরু যদিও করেছিল চীনই, ম্যাচের ১২ মিনিটে চীনের ওয়াং সুয়াং বাঁ উইং ধরে ঢুকে শট নেন।

গোলকিপার মিলি ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে পাস পেয়ে আবারো হেড করেছিলেন ওয়াং। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল মাঠের বাইরে। বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

তবে দুই মিনিট পরেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে টাইগ্রেসরাও। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাঁ পায়ে বলে দূরপাল্লার শট নেন ঋতুপর্না। তবে শেষ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন।

এরপর ১৮ ও ২০ মিনিটে চীন পরপর দুটো সুযোগ বানালেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার মিলি। অবশ্য ২৪ মিনিটে আর পারেননি মিলি, গোল পেয়ে যায় চীন।

জিন কুনের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডে জালে বল জড়ান ওয়াং সুয়াং। তবে কিছুক্ষণ পর অফসাইড বলে ভিএআর গোলটি বাতিল করে দেয়। বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

৪১ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। মনিকা চাকমার কর্নার কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়ে, কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিতে পারেননি। এরপর আর প্রথমার্ধে কোনো সুযোগও আসেনি।

বিরতি থেকে ফেরার পরও বাংলাদেশ আর তেমন সুযোগ পায়নি। উল্টো দলের ব্যস্ত সময় কাটে রক্ষণে। একটু পরপর উপরে উঠে আসছিল চীন। ৬৮ মিনিটে দারুণ সেভে দলকে আবারো রক্ষা করেন মিলি।

৮০ মিনিটে চীনের সরাসরি কর্নার থেকে নেয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এরপর খেলায় গতি ফেরাতে ৮৬ মিনিটে অভিষেক হয় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর।

তবে তিনিও তেমন কিছু করতে পারেননি। শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য আর কিছু ঘটেনি। চীনও আর দেখা পায়নি জালের। তাতে ২-০ গোলে পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে হারলেও সমর্থকদের মন জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতায় চীনের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকলেও দারুণ লড়াই করে মেয়েরা।

হারলেও তাই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ঋতুপর্ণা-আফঈদারা।

পুরো ম্যাচে অবশ্য প্রত্যাশিতভাবে দাপট ছিল চীনেরই, ৫৯.৭ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। আর বাংলাদেশ বল দখলে রাখে ৪০.৪ শতাংশ।

আর এই সময়ে মোট ২৪ টি শট নিয়েছে চীন। যেখানে ১০টি শট ছিল পোস্টে। বিপরীতে ৮টি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। যার ২টি শট রাখতে পারে লক্ষ্যে।