বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে যারা এগিয়ে

১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোল হারায় ইংলিশরা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আর্জেন্টিনা ও ইংলিশ তারকা যথাক্রমে লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেন
আর্জেন্টিনা ও ইংলিশ তারকা যথাক্রমে লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেন |সংগৃহীত

আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপে দেখা হয়েছিল দু’দলের। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারো বিশ্ব মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

বিশ্বকাপে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর আগের পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড তিনবার ও আর্জেন্টিনা দু’বার জয় পায়।

তবে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনাই। তিনবারের লড়াইয়ে দু’বার জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোল হারায় ইংলিশরা।

চার বছর পর ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে হওয়া বিশ্বকাপে আবারো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইংলিশরা। সেমিতে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড।

ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করে ইংল্যান্ড। পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে ইংলিশরা।

১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো ইংল্যান্ডের সাথে দেখা হয় আর্জেন্টিনার। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় এক অধ্যায়ের নাম। কারণ ওই ম্যাচের ৫১ মিনিটে হেড করতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। যা এখনো ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।

ওই গোল নিয়ে পরবর্তী সময়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

বিতর্কিত গোলের চার মিনিট পর আবারো ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে ম্যারাডোনার দল।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা।

১২ বছর পর আবারো বিশ্বকাপে দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের মাটিতে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গোলে হারায় আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল।

২০০২ সালে পঞ্চবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে হওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম।

ওই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হারে ইংলিশরা।

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান :

১৯৬২ : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

১৯৬৬ : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৮৬ : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৯৮ : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা)

২০০২ : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

সূত্র : বাসস