ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফা, ফিফা সভাপতি হিসেবে খেলাইফিকে চায় ইউরোপ

‘বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাসের আল খেলাইফি
নাসের আল খেলাইফি |সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনার জেরে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারাচ্ছে উয়েফা। তার পরিবর্তে নাসের আল-খেলাইফিকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এমন দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এ পরিকল্পনার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে উয়েফা সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা, সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কট ও ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

বৈঠকে উপস্থিত উয়েফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া প্রায় যে কাউকেই আমি সমর্থন করব।’ তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানকেই স্পষ্ট করে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে যাকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই নাসের আল-খেলাইফি নিজে ফিফা সভাপতির পদে লড়তে আগ্রহী নন। ৫২ বছর বয়সী এই কাতারি ক্রীড়া প্রশাসকের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতি হওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা আগ্রহ নেই খেলাইফির। তিনি আগের মতোই ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাগুলোর সাথে কাজ চালিয়ে যেতে চান।

বর্তমানে ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা খেলাইফি উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্যও। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম প্রধান সম্প্রচারস্বত্বধারী বিইন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসিএও। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করলেও এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনার বিষয়ে তারা জানতে পেরেছে গণমাধ্যমের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে স্বচ্ছ ও অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

তবে উয়েফার আপত্তি থাকলেও ইনফান্তিনোকে সরানো সহজ হবে না। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছাড়া সভাপতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আর উয়েফার সদস্য দেশ মাত্র ৫৫টি। ফলে ইউরোপের সমর্থন পেলেও বৈশ্বিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করাই হবে ইনফান্তিনোর যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।