বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচনের দিনই বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগামী ২২ বছরের জন্য ঢাকার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বাফুফেকে বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জার্সি উন্মোচন করেন।
সামনে ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের। ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপের অভিযান শুরু করবে জামাল ভূঁইয়ার দল। অন্যদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে মারিয়া মান্দার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী দল।
নতুন জার্সি তৈরিতে সমর্থকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দৌড় জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নকশা পেয়েছিল। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়েছে।
হোম জার্সির মূল ভাবনা নেয়া হয়েছে মাতৃভাষা থেকে। বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি মাত্র আট মিনিটে শুকিয়ে যায়। খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জার্সির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা। সমর্থকদের জন্য তৈরি সংস্করণের দাম ৭০০ টাকা। দেশের ইনফিনিটির ১৬৫টি স্টোরে জার্সি পাওয়া যাবে। অনলাইনেও কেনার সুযোগ রয়েছে।
জার্সি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘জার্সি আমাদের আরেকটা পতাকা। বাংলাদেশের মতো এমন ক্রেজি ফুটবল সমর্থক পৃথিবীতে এখন সত্যিই কম আছে। এই জার্সি পরে সমর্থকরা যেন গর্ব অনুভব করতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও বাংলাদেশের ফুটবল জার্সিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় জার্সি নিয়ে এমন অনুষ্ঠান বা একে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার চর্চা ছিল না। বাংলাদেশের জার্সিকে যদি আমরা সঠিকভাবে প্রমোট করতে পারি, তবে তা এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।’
জার্সি উন্মোচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বাফুফের জন্য সরকারি সহায়তার কথাও জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাফুফের জন্য সরকার ৫০ কোটি টাকার সিড মানি বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ ব্যাংকে রেখে পাওয়া লভ্যাংশের বড় একটি অংশ বাফুফে নিজেদের কার্যক্রমে ব্যয় করতে পারবে। দেশের ৪১টি ক্রীড়া ফেডারেশনের জন্য মোট ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার সিড মানি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এনএসসি ও বাফুফের মধ্যে দুটি স্টেডিয়াম নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং এনএসসির পক্ষে ক্রীড়া পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২২ বছর কমলাপুর ও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বাফুফের ব্যবস্থাপনায় থাকবে। তবে এর অর্থ স্থায়ীভাবে স্টেডিয়াম দুটির মালিকানা বাফুফের কাছে চলে যাওয়া নয়। মালিকানা এনএসসির কাছেই থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ফেডারেশনও স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে পারবে। বাফুফে মূলত স্টেডিয়ামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো ব্যবহার ও উন্নয়ন করতে পারবে।
কমলাপুর স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরেই মূলত ফুটবল খেলা হয়ে আসছে। আর সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বাফুফের মাঠ সঙ্কট কিছুটা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে আরো স্টেডিয়াম বাফুফেকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে।



