বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দখলে নিয়েছেন লিওনেল মেসির সিংহাসন। সেই সাথে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায়, গোল্ডেন বুট হাতছানি দিচ্ছে তাকে।
শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা এতটা রোমাঞ্চ ছড়াবে ভাবেনি কেউ। পাগলাটে ম্যাচে ১০ গোল আদায় করে নিরো দু’দল মিলে। যদিও মায়ামিতে শেষ হাসি ইংল্যান্ডের, ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে তারা।
প্রথমার্ধে চার গোল হজম করে রীতিমতো খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। অনেকেই ভেবেছিলেন, বড় কোনো লজ্জাই হয়তো অপেক্ষা করছে ফরাসিদের জন্য। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই যেন পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
দ্বিতীয়ার্ধে চারবার জালের দেখা পায় ফ্রান্স। যেখানে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার এই ২ গোল দলকে শুধু লড়াইয়ে ফেরায় না, ব্যক্তিগত অর্জনেও নতুন ইতিহাস গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের নবম গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মেসির ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন ফরাসি দলনেতা।
সেই সাথে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও উঠে আসেন শীর্ষে। এরপর ৬৬ মিনিটে আবারো দেখা যায় ওলিস-এমবাপ্পে জুটির দুর্দান্ত বোঝাপড়া। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।
আর এই গোলেই বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২। ফলে ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এককভাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে।
জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০, সাথে রয়েছে ৪টি অ্যাসিস্ট। সব মিলিয়ে এবারের আসরে ফ্রান্সের হয়ে মোট ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলোর একটি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি এখন সবার ওপরে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির গোল ৮টি।
তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এখনো ফাইনাল বাকি। ফলে এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেই। আজ রাত ১টায় ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা।
এমবাপ্পের ১০ গোল তাকে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের অভিজাত তালিকাতেও জায়গা করে দিয়েছে। আর আধুনিক ফুটবলে এক আসরে এত গোলে অবদান নেই আর কোনো ফুটবলারের।
যদিও এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ড এখনো ফ্রান্সের কিংবদন্তি জুস্ত ফঁতেনের। যিনি ১৯৫৮ সালে মাত্র ছয় ম্যাচে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন। তবে কোনো অ্যাসিস্ট করেছিলেন কিনা- সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এমবাপ্পের সামনে অবিশ্বাস্য এক রেকর্ডের হাতছানি। এবারো যদি তিনি গোল্ডেন বুট জিতেন, তবে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতবেন তিনি। যে রেকর্ড নেই আর কারো।
এবারে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ। ফলে মেসি তার রেকর্ড ভেঙে দিলেও আর কিছু করার থাকছে না। কিন্তু মাত্র ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের সামনে সুযোগ আছে বিশ্বকাপের সব রেকর্ড নিজের করে নেয়ার।
মাত্র ৩ বিশ্বকাপ খেলেই যেভাবে ৬ বিশ্বকাপে খেলা মেসির সাথে টক্কর দিচ্ছেন, সেটাই তো স্বপ্নের মতো। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচে ২২ গোল তার, আর অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৬। অর্থাৎ ম্যাচের চেয়েও গোলে অবদান বেশি তার।



