একসময় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। অথচ এখন একের পর এক মিত্র হারিয়ে চারদিক থেকেই চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি। ওয়েলস ইতোমধ্যে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে, একই পথে হাঁটছে ইংল্যান্ডও।
এদিকে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে উয়েফা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে- পুনর্নির্বাচনের গুঞ্জন। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতির মাঝেই সামনে এসেছে নতুন দাবি—নিজের চেয়ার বাঁচাতে নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চাইছেন ফিফা সভাপতি!
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে জরুরি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন ফিফা বস। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শীর্ষ এই কূটনীতিকের সাথে টেলিফোনে কথা বলার কথা ছিল ইনফান্তিনোর।
তবে কিছুক্ষণ পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। এক্সে দেয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন জানান, ইনফান্তিনোর সাথে কথা বলার কোনো পরিকল্পনাই নেই মার্কো রুবিওর।
উল্টো নিউইয়র্ক পোস্ট’র খবরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সূত্রের কথার সত্যতা যাচাই করা দরকার ছিল, অথবা তারা আমাদের কাছেই সত্যটা জিজ্ঞেস করতে পারত।’
বর্তমান সঙ্কটের শুরু ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
আলোচিত সেই প্রকল্পে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাতিল করলেও বিতর্ক থামেনি।
বরং দিন দিন আরো কঠিন হয়ে উঠছে ইনফান্তিনোর অবস্থান। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছে।
আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডও তাকে দেয়া সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইউরোপের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল শক্তির সমর্থন হারিয়ে কার্যত আরো একা হয়ে পড়েছেন ফিফা সভাপতি।
নিউইয়র্ক পোস্ট আরো দাবি করেছে, বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন ইনফান্তিনো। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এমতাবস্থায় তিনি নিজেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন মনে করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। তবে এমনটা ঘটাও অসম্ভব নয়। যে চাপে আছেন ইনফান্তিনো, এই মুহূর্তে তার ভরসা হতে পারে কেবল হোয়াইট হাউসই।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতির নির্বাচন। নিজ দায়িত্ব ধরে রাখার লক্ষ্য থাকলেও সাম্প্রতিক বিতর্ক ও একের পর এক সমর্থন হারানোয় ইনফান্তিনোর সেই পথ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কঠিন।



