ফাইনালে উঠতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বার্সেলোনাকে। সেই পথেই ছিল তারা, অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঢেলে দিল সাধ্যের সবটা। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি, কোপা দেল রে থেকে বিদায় বার্সার।
বার্সেলোনাকে বিদায় করে দীর্ঘ এক যুগ পর কোপা দেল রের ফাইনালে আথলেতিকো মাদ্রিদ। কাম্প ন্যুতে মঙ্গলবার ৩-০ গোলে হেরেও দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে এগিয়ে ফাইনালে সিমিওনের দল।
শিরোপা স্বপ্ন প্রথম লেগেই ধূসর হয়ে যায় বার্সার। আথলেতিকোর ঘরের মাঠে গত সপ্তাহে ৪-০ বিধ্বস্ত হয় কাতালানরা। ফলে ফাইনালে উঠতে দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বার্সার।
ঘরের মাঠে সেই চেষ্টার কমতি রাখেনি কাতালানরা। প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নেয় বার্সা। যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কতটা মরিয়া ছিল তারা।
৪ গোলের ব্যবধান ঘোচাতে এদিন শুরু থেকে আক্রমণ করতে থাকে বার্সেলোনা। তবে বারবার আক্রমণ আটকে দিচ্ছিলেন আরহলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তবে ২৯তম মিনিটে আর পারেননি।
তরেসের নিচু শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে যদিও রক্ষা করেন মুসো, তবে ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় তারা। কর্নার থেজে বল পেয়ে গোলমুখে পাস দেন লামিনে ইয়ামাল, যা সহজেই জালে পাঠান মার্ক বের্নাল।
পরের গোল আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। পেদ্রি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। ঠান্ডা মাথার স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সা।
বিরতির পর আবারো চলতে থাকে আক্রমণ। আর প্রতিহত করতে থাকেন মুসো। তবে এর মাঝেই ৭২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে বার্সা। কানসেলোর ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বের্নাল।
দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরাতে তখন আর ১টি গোল চাই বার্সেলোনার। তবে সেই আক্ষেপ আর মেটেনি। নিজেরা আর গোল দিতে না পারলেও বার্সাকেও পারতে দেয়নি আথলেতিকো।
৩-০ গোলে হেরেও তাই ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মাতে আথলেতিকো। ২০১২-১৩ মৌসুমে দশমবার শিরোপা জয়ের পর, এই প্রথম কোপা দেল রের ফাইনালে উঠল তারা।
শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল সোসিয়েদাদ অথবা আথলেতিকো বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে দিয়াগো সিমিওনের দল।



