দুই গোলে পিছিয়ে থেকে যখন বিদায়ের শঙ্কায় আর্জেন্টিনা, তখনই ঘটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ ১০ মিনিটে তিন গোল করে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তারা।
রোমাঞ্চে ভরা এই জয়ের পর নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, আর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উৎসব।
আটলান্টার এই ম্যাচে শুরুটা ছিল আর্জেন্টিনার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিদায়ের শঙ্কা যখন ঘনিয়ে এসেছে, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় লিওনেল স্কালোনির দল।
প্রথমে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমে। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে সমতায় ফেরান মেসি। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেডে আসে জয়সূচক গোল। অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আবেগের রোলার-কোস্টার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করেন তিনি। সেই সাথে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডেও নাম লেখান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে হতাশায় ডুবে না থেকে কিছুক্ষণ পরই গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল, আর বিশ্বকাপের সব আসর মিলিয়ে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছি। ২-০ পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না, কখনো হালও ছাড়ে না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করাই আমাদের পরিচয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘রোমেরোর গোলটি আমাদের নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এরপর আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ম্যাচে ফেরার সুযোগ আছে। আজ ছেলেরা অসাধারণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই জয় আমাদের সবার জন্য বিশাল স্বস্তির।’
নিজের পেনাল্টি মিস নিয়ে আক্ষেপও লুকাননি মেসি। তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর খুব রাগ হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, গোলটা হলে ম্যাচটা আরো আগেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসত। তবে শেষ পর্যন্ত গোল করে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
শেষে সতীর্থদের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘এই দলকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। আমাদের চরিত্র, লড়াই করার মানসিকতা আর জয়ের ক্ষুধাই আজকের প্রত্যাবর্তনের মূল শক্তি।’
মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এই জয় আর্জেন্টিনাকে তুলে দিয়েছে বিশ্বকাপের শেষ আটে। এবার তাদের সামনে সুইজারল্যান্ড। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাসে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত সেই কোয়ার্টার ফাইনাল।


