নরওয়ের কাছে শেষ ষোলতে পরাজিত হয়ে বিদায়ের পর ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, এই হারকে ভবিষ্যতের জন্য ‘প্রেরণার জ্বালানি’ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। একইসাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হতাশাজনক এই বিশ্বকাপই ‘নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা’।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে হারের পর আনচেলত্তি বলেন, ‘অবশ্যই যা ঘটেছে, তাতে সবাই ভীষণ হতাশ। আমি মনে করি না আমরা অসাধারণ একটি বিশ্বকাপ খেলেছি, তবে ভালোই খেলেছি। আমার বিশ্বাস, আজকের ম্যাচটি জেতার যোগ্যতাও আমাদের ছিল।’
ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েসের নেয়া একটি পেনাল্টি নরওয়ের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে শেষ দিকে আর্লিং হালান্ড দু’টি গোল করে নরওয়েকে জয় উপহার দেন। যোগ করা সময়ে নেইমারের সফল স্পট-কিক ব্রাজিলের জন্য শুধুই সান্তনার গোল হয়ে থাকে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘এ ধরনের পরাজয় মেনে নিতে সময় লাগে। এটি ছিল আমাদের জন্য একটি নতুন যাত্রা। এখন আমাদের নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করতে হবে এবং আরো উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেয়া এই ইতালীয় কোচের লক্ষ্য ছিল দলকে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়া। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের সাথে চুক্তিবদ্ধ আনচেলত্তি নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেন।
৬৭ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি শেষ। আমার বিশ্বাস, এটাই নতুন এক অধ্যায়ের শুরু।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সামর্থ্য ছিল, আজকের ম্যাচে যা-ই ঘটুক না কেন।’
এর ফলে ব্রাজিলের আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা এখন এক চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময়ে গড়াবে। তাদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা এসেছিল ২০০২ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত আসরে।
রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেয়ায় ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স। সে বছরও তারা একই পর্যায়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি যা বলতে পারি, আমরা যা করতে পারি এবং যা করব, তা হলো জাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া, নিজেদের আরো উন্নত করা এবং নতুন নতুন ধারণা খুঁজে বের করা। আমার মনে হয় আমরা ভালো কাজ করেছি। কিন্তু এটাই ফুটবল, এটাই খেলাধুলা। এখানে পরাজয়, দুঃখ এবং হারের তিক্ততা মেনে নিতেই হয়। এ ধরনের পরিস্থিতির সাথে আমি খুবই পরিচিত। আমরা এটি সামলে উঠব এবং ভবিষ্যতের জন্য এটিকে প্রেরণার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।’
টুর্নামেন্টে ৪ গোল করা ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দিনটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখের দিন’ বলে উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়া সবসময়ই বড় ধাক্কা। আমরা ঠিকভাবে ম্যাচটি বিশ্লেষণই করতে পারিনি। তবে এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফুটবল এমনই। আমরা সব সময় জিতব না। আমি জানি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আমাদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দেশের মানুষ আবারো আনন্দ ফিরে পেতে চায়, কিন্তু এবার সেটা সম্ভব হলো না।’
সূত্র : বাসস


