গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল, ব্যালন ডি'অর—তিন স্বপ্নের সামনে মেসি

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচেই টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পাশাপাশি অধরা গোল্ডেন বুট, রেকর্ড তৃতীয় গোল্ডেন বল এবং এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। অসাধারণ এসব দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জন তাকে নবম ব্যালন ডি'অর জয়ের পথেও অনেকটা এগিয়ে দেবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিশ্বকাপ হাতে লিওলেন মেসি
বিশ্বকাপ হাতে লিওলেন মেসি |নয়া দিগন্ত অনলাইন

শিরোপা জয়ের লড়াই তো আছেই, সেই সাথে স্পেনের বিপক্ষে আজকের ফাইনালটি লিওনেল মেসির জন্য হতে পারে ঐতিহাসিক রাত। এই রাতেই মেসি হয়ে উঠেতে পারেন আরো পরিপূর্ণ, পা রাখতে পারেন অনন্য উচ্চতায়।

এই একটি ম্যাচেই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, তৃতীয় গোল্ডেন বল, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সাথে নবম ব্যালন ডি'অরের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।

বিশ্বকাপ জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি সরাসরি জড়িত ১২ গোলে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে ছিলেন তিনি।

তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে আপাতত সবার ওপরে উঠে গেছেন। তবু লড়াই শেষ হয়নি। সুযোগ এখনো আছে।

ফাইনালে দু’টি গোল করলেই এমবাপ্পের ১০ গোলের সমতায় পৌঁছে যাবেন। সে ক্ষেত্রে গোল্ডেন বুট নির্ধারণে ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম কার্যকর হবে। আর তিন গোল করতে পারলে কোনো হিসাব-নিকাশের প্রয়োজনই থাকবে না।

ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গোল্ডেন বুট জেতা হয়নি মেসির। বিশ্বকাপ জিতেছেন, দু’বার গোল্ডেন বল জিতেছেন, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন; কিন্তু সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটি এখনো অধরা। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ এবার তার সামনে।

গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়েও সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে এই সম্মান জিতেছিলেন তিনি।

এবারও যদি সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনবার গোল্ডেন বল জয়ের নজির গড়বেন। যা তাকে নিয়ে যাবে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড পুনরুদ্ধার করার সুযোগ তার সামনে। যদিও আপাতত সেই সিংহাসনে বসে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে সংখ্যাটা ২২-এ নিয়ে গেছেন তিনি।

অন্যদিকে মেসির গোল এখন ২১টি। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে একটি গোল করলেই এমবাপ্পের রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি, আর জোড়া গোল করলে ২৩ গোল নিয়ে আবারো সর্বকালের সেরা গোলদাতার আসন ফিরে পাবেন তিনি।

ব্যক্তিগত পুরস্কারের আলোচনায় রয়েছে ব্যালন ডি'অরও। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর বিভিন্ন প্রেডিকশন মার্কেট, বুকমেকার ও বিশ্লেষকদের তালিকায় ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার এখন মেসি।

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে শিরোপা জিততে পারলে সেই সম্ভাবনা আরো অনেকটাই বেড়ে যাবে। ২০০৯ সালে প্রথম ব্যালন ডি'অর জয়ের পর ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

এবার নবমবারের মতো ব্যালন ডি'অর হাতে তুলতে পারলে নিজের রেকর্ড আরো সমৃদ্ধ করবেন তিনি ও দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাঁচটি ব্যালন ডি'অরের সাথে ব্যবধান আরো বেড়ে যাবে নিঃসন্দেহে ।

তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড় লক্ষ্য আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেয়া। ২০২২ আসরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিলেন মেসি। এবার জিততে পারলে আর্জেন্টিনা হবে টানা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। সেই সাথে আর্জেন্টিনার শিরোপা সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াবে ৪-এ। আলবিসেলেস্তারা বসে যাবে জার্মানি ও ইতালির পাশে। সামনে শুধু তখন ব্রাজিল (৫)।

তাই নিউইয়র্কের রাতটি শুধু একটি ফাইনাল নয়; এটি মেসির ঐতিহাসিক সব অর্জনের উপলক্ষও। কয়েকটি ভালো মুহূর্ত আর একটা ট্রফি— এই কিংবদন্তিকে নিয়ে যাবে আরো অনন্য উচ্চতায়।