টাইব্রেকার রোমাঞ্চে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো

চতুর্থ শটে কুইন্টেন টিম্বারের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একই শটে আশরাফ হাকিমিও গোল করতে ব্যর্থ হন। পঞ্চম শটে নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেন্সিও সামারভিলের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনো। এরপর ইসমাইল সাইবারি গোল করে মরক্কোকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন।

ক্রীড়া ডেস্ক
টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারানোর পর মরোক্কানদের   উদযাপন
টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারানোর পর মরোক্কানদের উদযাপন |সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরা, অতিরিক্ত সময়ের লড়াই, এরপর শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার—সব নাটকীয়তার পর শেষ হাসি হাসল মরক্কো। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আফ্রিকার দলটি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে শুরু থেকেই দুই দলই একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে। তবে শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর দুর্দান্ত সেভ এবং ইসমাইল সাইবারির সফল শটে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো।

টাইব্রেকারে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসের টেউন কুপমাইনার্স গোল করলেও মরক্কোর প্রথম শট নষ্ট করেন নিল এল আয়নাউয়ি। দ্বিতীয় শটে ডাচদের জাস্টিন ক্লাইভার্ট পোস্টে মারেন। মরক্কোর দ্বিতীয় শটে আবদেররাজাক রাহিমি গোল করেন। এরপর ওয়াউট ভেগহর্স্ট নেদারল্যান্ডসের হয়ে সফল হলেও মরক্কোর শেমসদিন তালবি সমতা বজায় রাখেন।

চতুর্থ শটে কুইন্টেন টিম্বারের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একই শটে আশরাফ হাকিমিও গোল করতে ব্যর্থ হন। পঞ্চম শটে নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেন্সিও সামারভিলের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনো। এরপর ইসমাইল সাইবারি গোল করে মরক্কোকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। বলের দখলে ছিল সমান সমান লড়াই। তবে আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল মরক্কো। প্রথম ৪৫ মিনিটে তারা চারটি শট নেয়, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস তিনটি শট নিলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ডাচ ফরোয়ার্ড। এরপর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে বলে মনে হচ্ছিল ইউরোপের দলটিকে।

কিন্তু যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৯১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান ইসা দিওপ। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। শেষ মুহূর্তের সেই গোল মরক্কোকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনে অতিরিক্ত সময় নিশ্চিত করে।

অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও কোনো দল আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের, যেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরক্কো।

নাটকীয় এই জয়ের পর মরক্কো এখন শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের অপেক্ষায়।