বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের অতিরিক্ত সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের সাথে সংস্পর্শে পড়ে পেনাল্টির দাবি করেন মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) থেকেও কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। আর এই ঘটনার ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে আর্জেন্টিনা করে ফেলে তাদের জয়সূচক গোল। তারপর মিসরের কোচ-স্টাফদের সাথে রেফারির লেগে যায় হট্টগোল।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও আন্তর্জাতিক রেফারি সাইমন সানির মতে, পেনাল্টি না দেয়াই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।
ফিফার আইন এ বিষয়ে কি বলে?
ফিফার স্ট্যান্ডার্ড ল ১২-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ডিফেন্ডার যদি পরিষ্কারভাবে আগে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, তবে তার পরে স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ বা খেলোয়াড়দের পায়ে পা জড়িয়ে যাওয়াকে ফাউল বলা হয় না, এটি চ্যালেঞ্জের একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। উল্টা এখানে সালাহই আলভারেজের পায়ে পা বাড়িয়েছিলেন, যার ফলে রেফারি ফাউল ডাকলে সেটি সালাহর বিপক্ষেই যেত।
সালাহ যখন বুঝতে পেরেছিলেন তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, তখন তিনি পেনাল্টি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুটা শরীর ছুঁড়ে দিয়ে ডাইভ দেয়ার চেষ্টা করেন। যেহেতু আলভারেজের ট্যাকলটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল, তাই ভিএআর অফিশিয়ালরা এতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন মনে করেননি এবং মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখেন।
একই ঘটনা ঘটেছে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাওয়া পেনাল্টির ক্ষেত্রেও। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারত তাগলিয়াফিকো ফাউল করেছেন, কিন্তু ভিএআর চেকে দেখা গেছে বলে আগে আলভারেজের সতীর্থ তাগলিয়াফিকোই টাচ করেছিলেন। ফলে নিয়মানুযায়ী ফাউলটি আর্জেন্টিনার পক্ষেই যায়।
রেফারি সাইমন সানির ভাষায়, সালাহ তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পরে মূলত রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ডিফেন্ডার প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। এরপর বলটি সালাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সালাহর ভারসাম্যও ঠিক ছিল না। পরে পায়ে পা লাগলেও সেটি খেলার গতিপথ বদলে দেয়নি। তাই ঘটনাটি পেনাল্টির পর্যায়ে পড়ে না।’



