বিশ্বকাপ শেষ হতেই চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা তীব্র বিরোধিতার মুখে ভেস্তে যাওয়ার পর তার নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফিফার পরবর্তী সভাপতি হিসেবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রভাবশালী ফুটবল প্রশাসকের নাম। তবে তালিকায় নেই নাসের আল খেলাইফি। জানা গেছে, ফিফা’র দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন তিনি।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে গোল ডটকম বলছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন উত্তর- মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছাড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা)।
সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে তাদের ৫৫ সদস্য দেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কট করবে।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফ্রাঙ্ক পাও বলেন, ‘এই প্রস্তাব প্রক্রিয়া, সুশাসন ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’ পরে এএফসিও একই অবস্থান নেয়। ফলে ইনফান্তিনো শুধু বাইরের চাপেই নন, ফিফার অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েন।
একে একে পদত্যাগ করেন তার শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো ও ফিফার অপারেশনস পরিচালক কেভিন লামুর।
পদত্যাগের পর লামুর বলেন, ‘একজন সভাপতির দায়িত্ব সবাইকে একত্র রাখা ও অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু এখন আমরা তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখছি। এটি ফিফার প্রকল্প নয়, একজন ব্যক্তির প্রকল্প।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে মাত্র ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশই যখন ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে, তখন এমন উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলেও ইনফান্তিনো সাথে সাথেই পদ হারাবেন না, তবে তার নেতৃত্ব আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
২০২৭-২০৩১ মেয়াদের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর। আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ, মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি। কানাডার এই ৬০ বছর বয়সী কর্মকর্তা ২০১৬ সাল থেকে কনকাকাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ২০১৩ সাল থেকে এএফসির সভাপতির দায়িত্বে থাকা শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
এর আগে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ছিল। তবে পিএসজি, উয়েফা, বিইন মিডিয়া গ্রুপ ও ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় তিনি ফিফা সভাপতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।



