বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে ২৪ বছর পর আবারো মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে। রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বোস্টনের মাঠে নামবে দু’দল।
তাতেই ফিরেছে পুরনো স্মৃতি। বের হয়ে এসেছে বিশ্বকাপে দু’দলের শেষবার দেখা হওয়ার ইতিহাস। দুই যুগ আগে ২০০২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দু’দল।
যে ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার মাত্র দুই মিনিট আগে অলিভার নয়ভিলের করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল জার্মানি। হৃদয় ভাঙে দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির।
২৪ বছর পর এবার আবার মুখোমুখি দু’দল, আবারো সেই নকআউট পর্ব। এবারো প্রশ্ন সেই একটাই- ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি প্রতিশোধের হাসি হাসবে প্যারাগুয়ে?
টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার পর এবার নকআউটে ফিরেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা।
এরপর আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে ছন্দ হারায় নাগেলসম্যানের দল। তবে শিরোপা পুনরুদ্ধারে প্রস্তুত তারা।
জার্মানদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা অবশ্য তিন তারকা- ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও কাই হাভার্টজকে নিয়ে। ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত আলো ছড়ালেও বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি তারা।
এ প্রসঙ্গে জার্মানির টিম ডিরেক্টর রুডি ফোলার বলেন, ‘আমরা যদি সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জন করতে চাই, তাহলে আমাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের পারফর্ম করতেই হবে। ওরাও জানে, তাদের আরো ভালো খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, সেই সময় খুব কাছেই।’
অন্যদিকে প্যারাগুয়ের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল তারা। তবে এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় গুস্তাভো আলফারোর দল।
তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার সাথে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর এবার তাদের সামনে শক্তিশালী জার্মানি।
চোখ ধাঁধানো ফুটবল নয় বরং শক্ত রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকায় বড় দলগুলোর জন্য বারবার কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে তারা।
যদিও সামগ্রিক শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতায় এখনো এগিয়ে জার্মানিই। কিন্তু নকআউট ফুটবলে অতীতের অর্জন বা পরিসংখ্যান খুব বেশি কাজে আসে না। একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
২০০২ সালে যেই মুহূর্তটি এনে দিয়েছিলেন অলিভার নয়ভিল। ২০২৬ সালে সেই স্মৃতি আবার ফিরবে, নাকি বোস্টনে লেখা হবে নতুন ইতিহাস- সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।



