লাইভ সম্প্রচারকালে ফিফা সভাপতি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে কড়া শাস্তি পেলেন হোর্হে চিপি ভেরা। বিশ্বকাপ অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে জনপ্রিয় এই ধারাভাষ্যকারের।
গত শনিবার প্যারাগুয়ে-তুরস্ক ম্যাচে ঘটে এ ঘটনা। ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্বদেশী প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন লাল কার্ড দেখলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভেরা। সরাসরি সম্প্রচারেই ক্ষোভ দেখান তিনি।
ধারাভাষ্যে বসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ম্যাচ রেফারিকে ‘চোর’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি দাবি করেন, ‘ফুটবলকে ধ্বংস করা হচ্ছে।’
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ। তুরস্কের ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুরের সাথে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখায় আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
এই নিয়ম ভঙ্গের দায়ে বিশ্বকাপে প্রথম ফুটবলার হিসেবে বহিষ্কারের নজির গড়েন তিনি। সেই সাথে পেয়েছেন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও। তবে মাঠের এই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত ভেরার জন্য বড় শাস্তি ডেকে আনে।
ম্যাচ শেষে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেও রক্ষা পাননি তিনি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে ভেরা জানান, বিশ্বকাপের জন্য দেয়া তার সব ধরনের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে।
এর ফলে বিশ্বকাপ চলাকালে কোনো সংবাদ সংগ্রহ, সম্প্রচার বা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকাণ্ড থেকেই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ভেরা বলেন, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা ও দলের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সেই মুহূর্তে রেফারি, ফিফা ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভেরার ভাষা ও আচরণকে পেশাদার সম্প্রচার নীতিমালার পরিপন্থী হিসেবে দেখেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এবিসি কার্ডিনাল ও এবিসি টিভির হয়ে কাজ করা ভেরা ইতোমধ্যে স্পনসরদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি নিজের আচরণের পূর্ণ দায় স্বীকার করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপত্র পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন।
ভেরার ভাষায়, ‘রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ হারানোর কোনো সুযোগ নেই। সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রক্ষা করতে না পারার দায় আমারই।’



