মাঠের পারফরমেন্স ও আয়োজন, দুই দিক থেকেই মরক্কো আফ্রিকান নেশন্স কাপের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে দেশটি এখন দৃঢ়ভাবে শীর্ষ ফুটবল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সফল যৌথ আয়োজক হতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মাঠে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ প্রিয় দলের মর্যাদা ও আফ্রিকার শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ের যথার্থতা প্রমাণ করেছে। ২২ বছর পর প্রথমবারের মতো তারা নেশন্স কাপের ফাইনালে উঠেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল।
২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম কোনো আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার পর এটিই ছিল ওয়ালিদ রেগরাগুইর দলের পরবর্তী সাফল্য।
আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড় আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বাধীন এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১ নম্বরে থাকা এই দলের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স মরক্কোর দীর্ঘ সাফল্যের তালিকাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
গত এক বছরে তারা আরব কাপ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৭ আফ্রিকান নেশন্স কাপ এবং আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। এছাড়া ২০২৪ অলিম্পিকে পুরুষ ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মরক্কো। সামনে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়েও আশাবাদ রয়েছে, যেখানে তারা ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতির সাথে একই গ্রুপে লড়াইয়ে নামবে।
তবে এর পরের ২০৩০ বিশ্বকাপ, উত্তর আফ্রিকার এই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। স্পেন ও পর্তুগালের সাথে যৌথভাবে তারা সেই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। মাঠে বড় প্রভাব রাখার লক্ষ্য থাকবে মরক্কোর, যেখানে বর্তমান দলের কয়েকজন সদস্য তখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মাঠের বাইরেও গত এক মাসের সাফল্য এটুকু অন্তত প্রমান করেছে বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য মরক্কো প্রস্তুত।
আগের নেশন্স কাপের আয়োজনগুলোতে সাংগঠনিক সমস্যার অভাব ছিল না, বিশেষ করে ২০২২ সালে ক্যারেমরুনের আসরে। মধ্য আফ্রিকার দেশটি প্রথমে ২০১৯ সালের আয়োজনের দায়িত্ব পেলেও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তা কেড়ে নেয়া হয়। তিন বছর পর টুর্নামেন্টে ইয়াউন্ডের একটি স্টেডিয়ামে হুড়োহুড়িতে আটজনের মৃত্যু হয়। পিচ সমস্যার কারণে আরেকটি স্টেডিয়াম থেকেও ম্যাচ সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)-এর সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে মরক্কোর সুযোগ সুবিধাকে ‘বিশ্বমানের’ বলে অভিহিত করেছেন।
স্বাগতিকদের কাছে সেমিফাইনালে হেরে গেলেও নাইজেরিয়ার কোচ এরিক শেল মরক্কোর আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দেশের বড় অংশজুড়ে ভারী বৃষ্টি হলেও শীতকালীন এই নেশন্স কাপের মাঠগুলোর মান ছিল চমৎকার।
মরক্কোর অবকাঠামো ইতোমধ্যে অনেকটাই প্রস্তুত। বিশেষ করে আল বোরাক হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক, যা ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বন্দরনগরী তানজিয়ারকে মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ে যুক্ত করেছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য মরক্কোর প্রস্তাবিত ছয়টি ভেন্যুর মধ্যে রয়েছে রাবাতের ৬৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম এবং তানজিয়ারের ৭৫ হাজার আসনের একটি স্টেডিয়াম। এ ছাড়া ক্যাসাব্ল্যাঙ্কার বাইরে ৪০ কিলোমিটার দূরে নির্মাণাধীন নতুন হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম রয়েছে।



